ঢাকা    মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তরুণ কণ্ঠ

অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে ইরানকে কঠোরভাবে আঘাত করছে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প


প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে ইরানকে কঠোরভাবে আঘাত করছে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

ইরানের ওপর অর্থনৈতিক ও সামরিক— উভয় দিক থেকেই কঠোর চাপ অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধে রাশিয়ার ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, মস্কো তেহরানকে সহায়তার ক্ষেত্রে খুব বেশি কিছু করেনি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে তার বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক ও সামরিক— দুই ক্ষেত্রেই ইরানকে কঠোরভাবে আঘাত করছে। এ সময় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ইরানকে সহায়তা করার ক্ষেত্রে রাশিয়া অনেকটাই বিরত থেকেছে। মস্কোর এমন অবস্থানকে আমি ইতিবাচক হিসেবে দেখছি।

অর্থনৈতিক চাপ জোরদার ওয়াশিংটনের

ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে সাম্প্রতিক সময়ে নিষেধাজ্ঞা ও বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ জোরদার করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ইরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশগুলোর বিরুদ্ধেও অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ওয়াশিংটন।

গত ১৯ আগস্ট ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান চালানোর ঘোষণা দেন। সেই সময় তিনি ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর ওপরও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দেন। যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য, ইরানের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেনের সুযোগ সীমিত করে দেশটির সরকারের ওপর চাপ বাড়ানো।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধের প্রভাব দেশটির অর্থনীতিতে পড়ছে। গত আগস্টে ইরানের প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধের কারণে দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্য ৩৫ শতাংশ কমেছে। তবে অর্থনৈতিক চাপের মুখেও তেহরান এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সব দাবির কাছে নতি স্বীকার করেনি।

সামরিক সংঘাতেও বাড়ছে উত্তেজনা

অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনাও অব্যাহত রয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ঘিরে সংঘাত পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

রয়টার্সের ৩১ আগস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলার পর জর্ডানে অবস্থিত দুটি মার্কিন বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে সরাসরি সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি দেখা দেয়। একই সময়ে ওয়াশিংটন ইরানের তেল কেনা দেশগুলোর ওপরও গৌণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ জোরদার করে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ ও সামরিক পদক্ষেপের জবাবে ইরানও পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কূটনৈতিক সমাধান নিয়ে অনিশ্চয়তা

অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। ওয়াশিংটনের লক্ষ্য ইরানকে আলোচনায় ফিরিয়ে আনা ও নিজেদের শর্তে সমঝোতায় পৌঁছানো। তবে দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা, নিষেধাজ্ঞা এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নিয়ে মতপার্থক্য অব্যাহত রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক চাপ ইরানের ওপর প্রভাব ফেললেও তা দেশটির সরকারকে কতটা ছাড় দিতে বাধ্য করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। একই সঙ্গে সামরিক সংঘাত বাড়লে জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

তরুণ কণ্ঠ

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬


অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে ইরানকে কঠোরভাবে আঘাত করছে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
ইরানের ওপর অর্থনৈতিক ও সামরিক— উভয় দিক থেকেই কঠোর চাপ অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধে

তরুণ কণ্ঠ

সম্পাদক ও প্রকাশক: লিমা ইয়াসমিন
নির্বাহী সম্পাদক : সাইফুল ইসলাম খান
বার্তা সম্পাদক : এস টি শাহিন
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত লিড নিউজ ২৪
অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে ইরানকে কঠোরভাবে আঘাত করছে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প
0:00 0:00
1.0x