Thursday , 26 April 2018

সংবাদ শিরোনাম

মাটি ও মানুষের কিংবদন্তি শাইখ সিরাজ

September 29, 2016 10:44 am Leave a comment A+ / A-

uts-lv11-zinal-av20150612112750-8921125451zwu45ssbvwএইচ এম দুলাল::

শাইখ সিরাজ নামটা শুনলেই যেন শ্রদ্ধা ও ভালাবাসায় হৃদয় ভরে যায়। কৃষি উন্নয়ন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ ১৯৫৪ সালের ৭ই সেপ্টেম্বর  চাঁদপুরে জন্মগ্রহণকরেন । তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন ভূগোলে। ছাত্র জীবনেই সম্পৃক্ত হন বাংলাদেশ টেলিভিশন, বেতার ও সংবাদপত্রের সঙ্গে। বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘মাটি ও মানুষ’ অনুষ্ঠান উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে বিপুল গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেন তিনি। ১৯৯৫ সালে ৩৯ বছর বয়সে উন্নয়ন সাংবাদিকতায় পান সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার একুশে পদক।  টেলিভিশনসহ গণমাধ্যমের সঙ্গে প্রায় চার দশকের একনিষ্ঠ পথচলার মধ্য দিয়ে শাইখ সিরাজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন উন্নয়ন সাংবাদিকতার এক অগ্রপথিক হিসেবে। গণমাধ্যমে তার উদ্বুদ্ধকরণ প্রচারণায় আমূল পরিবর্তন এসেছে বাংলাদেশের কৃষিতে। বাংলাদেশে খাদ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে সূচিত হয়েছে বৈপ্লবিক সাফল্য। গ্রামীণ জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এসেছে ইতিবাচক পরিবর্তন। দেশের অর্থনীতিতে কৃষির বহুমুখী অবদান সূচিত হয়েছে। সৃষ্টি হয়েছে বহু সাফল্যের দৃষ্টান্ত। যার পেছনে যতগুলো কল্যাণমুখী তৎপরতা ও কর্মযজ্ঞ রয়েছে তার অন্যতম একটি হচ্ছে শাইখ সিরাজের কৃষিভিত্তিক বহুমুখী গণমাধ্যম কার্যক্রম। কৃষি, গ্রাম ও মানবসম্পদ উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো তার উন্নয়ন সাংবাদিকতার প্রধান বিষয়। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গণমাধ্যমেও সূচিত হয়েছে ইতিবাচক এক পরিবর্তনের ধারা।

ছাত্র জীবনেই সম্পৃক্ত হন বাংলাদেশ টেলিভিশন, বেতার ও সংবাদপত্রের সঙ্গে। বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘মাটি ও মানুষ’ অনুষ্ঠান উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে বিপুল গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেন তিনি। ১৯৯৫ সালে ৩৯ বছর বয়সে উন্নয়ন সাংবাদিকতায় পান সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার একুশে পদক।  টেলিভিশনসহ গণমাধ্যমের সঙ্গে প্রায় চার দশকের একনিষ্ঠ পথচলার মধ্য দিয়ে শাইখ সিরাজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন উন্নয়ন সাংবাদিকতার এক অগ্রপথিক হিসেবে। গণমাধ্যমে তার উদ্বুদ্ধকরণ প্রচারণায় আমূল পরিবর্তন এসেছে বাংলাদেশের কৃষিতে। বাংলাদেশে খাদ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে সূচিত হয়েছে বৈপ্লবিক সাফল্য। গ্রামীণ জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এসেছে ইতিবাচক পরিবর্তন। দেশের অর্থনীতিতে কৃষির বহুমুখী অবদান সূচিত হয়েছে। সৃষ্টি হয়েছে বহু সাফল্যের দৃষ্টান্ত। যার পেছনে যতগুলো কল্যাণমুখী তৎপরতা ও কর্মযজ্ঞ রয়েছে তার অন্যতম একটি হচ্ছে শাইখ সিরাজের কৃষিভিত্তিক বহুমুখী গণমাধ্যম কার্যক্রম। কৃষি, গ্রাম ও মানবসম্পদ উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো তার উন্নয়ন সাংবাদিকতার প্রধান বিষয়। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গণমাধ্যমেও সূচিত হয়েছে ইতিবাচক এক পরিবর্তনের ধারা।  শাইখ সিরাজ আমাদের সমাজের এমন এক ইতিহাস সৃষ্টিকারী ব্যক্তিত্ব, যিনি উন্নয়ন সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টিয়ে দিয়েছেন। যিনি সনাতন পদ্ধতির কর্মসংস্থানের পরিবর্তে আত্মন্নোয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের ধারণার প্রচলন করেছেন। যার মাধ্যমে বাংলাদেশে তিনি উন্নয়ন সাংবাদিকতার নতুন ইতিহাস রচনা করেছেন এবং এর পথিকৃতে পরিণত হয়েছেন।

বস্তুত তিনি উন্নয়ন সাংবাদিকতা বিষয়কে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। ফলে সঙ্গতভাবেই তিনি অভূতপূর্ব খ্যাতি অর্জন করেছেন। তবে এ খ্যাতির উৎস সরকারি ক্ষমতার আসন নয় বরং অসাধারণ একজন সামাজিক উদ্যোক্তা (social enterpreneur) হিসেবেই তার এ খ্যাতি।
রাজনীতিবিদরা আমাদেরকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন যে, উন্নয়ন মানে রাস্তাঘাট, পুল, ব্রিজ, কালভার্ট, ইমারত তথা অবকাঠামোগত উন্নয়ন। এমন উন্নয়ন যা দেখা যায়, ধরা যায়, ছোঁয়া যায় এবং যা থেকে লাভবান হওয়া যায়। এমন উন্নয়ন মূলত অর্থনির্ভর, ভাগ-বাটোয়ারার উন্নয়ন। সরকারি কোষাগারই এমন উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি। আমলা ও রাজনীতিবিদরাই মূলত এর বাস্তবায়নকারী।
শাইখ সিরাজ আমাদেরকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন যে, সত্যিকারের উন্নয়ন মানুষের উন্নয়ন, তাদের জীবনযাত্রার মানের পরিবর্তন। অবকাঠামোগত পরিবর্তন এ কাজে সহায়তা করতে পারে মাত্র, সরাসরি কর্মসংস্থান করতে পারে না। তাই সত্যিকারের মানব কল্যাণের জন্য প্রয়োজন তাদেরকেই নিজ জীবনের চালকের আসনে অধিষ্ঠিতকরণ।
যুক্তরাষ্ট্রের অশোকা ফেলো শাইখ সিরাজ খাদ্য নিরাপত্তা ও দারিদ্র্যবিমোচন বিষয়ে সাংবাদিকতায় অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৯ সালে অর্জন করেছেন জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার এ এইচ বুর্মা অ্যাওয়ার্ড। এছাড়া, তিনি পেয়েছেন এশিয়ার মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার গুসি পিস অ্যাওয়ার্ড, বৃটেনের বিসিএ গোল্ডেন জুবিলী অনার অ্যাওয়ার্ড। বৃটিশ হাউস অব কমন্স তাকে প্রদান করেছে বিশেষ সম্মাননা, বৃটিশ বাংলাদেশ ব্যবসায়ী সংগঠন তাকে দিয়েছে গ্রীন অ্যাওয়ার্ড। এছাড়া, পেয়েছেন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির স্বর্ণপদক, ডা. ইব্রাহিম মেমোরিয়াল স্বর্ণপদকসহ অর্ধশত দেশি-বিদেশি পুরস্কার ও সম্মাননা।
শাইখ সিরাজ টেলিভিশনের মতো শক্তিশালী গণমাধ্যমের শহর নগরকেন্দ্রিক সীমাবদ্ধতাকে ভেঙে বিশাল পরিধিতে নিয়ে গেছেন। তার একের পর এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগের মধ্য দিয়ে টেলিভিশন আজ শুধু বিনোদনের মাধ্যম হিসেবেই সীমাবদ্ধ নেই। টেলিভিশন পরিণত হয়েছে গ্রামীণ জনজীবন, অর্থনীতি তথা সমাজ বদলের অন্যতম এক শক্তি ও রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের খোরাকে।
শাইখ সিরাজ ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড, চ্যানেল আই-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও বার্তা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। চ্যানেল আই ও বাংলাদেশ টেলিভিশনে কৃষিবিষয়ক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় নিয়মিত লিখছেন। তিনি কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে নিরস বিষয় হিসেবে উপেক্ষিত কৃষিকে জাতীয় সংবাদের প্রধান খবরের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

শাইখ সিরাজ আরও দেখিয়ে দিয়েছেন যে, কর্মসংস্থানের জন্য সনাতন পদ্ধতির ওপর সর্বদা নির্ভর করতে হয় না। বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের দ্বারে ধরনা দিতে হয় না। ‘জ্যাক’-এর মাধ্যমে কিংবা উৎকোচের বিনিময়ে সরকারি চাকরির আশায় জুতার তলা ক্ষয় করতে হয় না। এককথায়, চাকরি নামক সোনার হরিণের পেছনে ছুটতে হয় না। ইচ্ছা করলে সাধারণ মানুষ নিজেরাই নিজেদের কর্মসংস্থান করে জীবনযাত্রার মানের উৎকর্ষ সাধন করতে পারে। একটি ‘সহায়ক পরিবেশ’ পেলে তাদের এ প্রচেষ্টা ফলপ্রসূ হওয়া অবশ্য আরও সহজ হয়।
বস্তুত শাইখ সিরাজের প্রচেষ্টায়, তার উৎসাহে এদেশের অসংখ্য মানুষ তাদের কর্মসংস্থান করতে পেরেছে। পেরেছে নিজের জীবনের হাল ধরতে, নিজ ভাগ্য গড়ার কারিগর হতে। যা ঘটেছে মূলত নিজেদের সময়, শ্রম, মেধা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে। অর্থাৎ অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিজের যা কিছু আছে তা দিয়েই তারা আত্মকর্মসংস্থান করেছে।
আত্মকর্মসংস্থানকারীরা শুধু হাঁস-গাছ-মাছই চাষ করছে না, তারা অনেক ব্যতিক্রমী পণ্যও উৎপাদন করছে। তারা উৎপাদনের অনেক নতুন ক্ষেত্রেও প্রবেশ করছে। অনেক নতুন প্রযুক্তির প্রচলন করছে। তারা উৎপাদনশীলতা বাড়াচ্ছে। নতুন নতুন পণ্য তারা দেশে-বিদেশে বাজারজাত করছে।
এ সকল আত্মকর্মসংস্থানকারীদের অধিকাংশই সাধারণ মানুষ। বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে, গাঁয়ে-গঞ্জে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মানুষ। এদের একটি বড় অংশই স্বল্পশিক্ষিত বা নিরক্ষর। এরা বহুলাংশে নিজেদের ন্যায্য প্রাপ্য সুযোগ ও সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তারা অবহেলিত। এদের মধ্যে নারী রয়েছে। রয়েছে পুরুষ। রয়েছে নবীন, রয়েছে প্রবীণ। এরাই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে পথের সকল বাধা-বিপত্তিকে উপেক্ষা করে। এরাই বাংলাদেশের মেরুদণ্ড।
এ সকল উদ্যমী ব্যক্তিদের মাধ্যমেই শাইখ সিরাজের কাজের সঙ্গে আমার পরিচয় দুই দশক আগে। দি হাঙ্গার প্রজেক্টের মাধ্যমে আমি নিজেও একটি ব্যতিক্রমী কাজে নিয়োজিত। এদেশের অতি সাধারণ মানুষ যাতে নিজেদেরকে জয় এবং অন্যদেরকে যুক্ত করে আত্মনির্ভরশীলতার পথে সামনে এগিয়ে যেতে পারে সে লক্ষ্যেই আমরা একদল স্বেচ্ছাব্রতী ‘উজ্জীবক’ সৃষ্টি করছি। গ্রামে-গঞ্জে প্রতিনিয়ত ঘোরার সুবাদে আত্মশক্তিতে বলীয়ান অসংখ্য এ সকল উজ্জীবকের কাছ থেকে তাদের জীবনে শাইখ সিরাজের অবদানের কথা প্রথম শুনতে পাই, যদিও তার সঙ্গে আমার সরাসরি পরিচয় হয় আরও অনেক পরে। শুনতে পাই, কিভাবে তারা বিটিভি কর্তৃক প্রচারিত, শাইখ সিরাজ গ্রন্থিত ও উপস্থাপিত ‘মাটি ও মানুষ’ অনুষ্ঠানের দ্বারা প্রণোদিত হয়ে জীবনমানের উন্নয়ন ঘটিয়েছে। আত্মকর্মসংস্থান করেছে। তাদের জীবনে তিনি আশার সঞ্চার করেছেন, ভরসা যুগিয়েছেন। এদের অনেকের জীবনের সত্যিকার হিরো শাইখ সিরাজ।
যতটুকু জানি, শাইখ সিরাজ ‘জিরো থেকেই হিরো’ হয়েছেন। কৃষিভিত্তিক একটি অনুষ্ঠানের একজন উপস্থাপক থেকে তিনি সারা বাংলাদেশের একটি অতি পরিচিত মুখ, একজন অতি সম্মানিত ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন। সমাজ পরিবর্তনের একজন গুরুত্বপূর্ণ রূপকার হয়ে উঠেছেন। তিনি একুশে পদকে ভূষিত হয়েছেন। আরও অনেক সম্মাননা তাকে দেয়া হয়েছে। তাকে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির পক্ষ থেকে স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়েছে।
শাইখ সিরাজের সম্মোহনী শক্তিতে ‘মাটি ও মানুষ’ বাংলাদেশের সর্বাধিক জনপ্রিয় টিভি অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটিতে পরিণত হয়েছিল। যদিও এর বিষয়বস্তুতে কোনো গ্লামার কিংবা মানুষের রিপুতে সুড়সুড়ি দেয়ার মতো উপাদান ছিল না। এটি সিনেমা, নাটক, গান কিংবা ক্রীড়া বিষয়ক অনুষ্ঠান ছিল না। রাজনীতিও এর বিষয়বস্তুর অন্তর্ভুক্ত ছিল না। এতে কোনো নামকরা নায়ক-নায়িকার উপস্থিতি ছিল না। ছিল না ক্রীড়া ব্যক্তিত্বের সমাগম। তবুও এর জনপ্রিয়তা ছিল আকাশচুম্বী। দর্শক ছিল অগণিত। একইভাবে চ্যানেল আই-এ হৃদয়ে মাটি ও মানুষ অনুষ্ঠানটিও এদেশের কৃষক খামারিদের প্রাণের অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। শহর-নগরের মানুষকে ভাবতে শিখিয়েছে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে।
কিভাবে তা হল? আমার ধারণা, শাইখ সিরাজ কৃষির মতো নিরস বিষয়কে অত্যন্ত সফল ও মানুষের জীবনস্পর্শকারী অনুষ্ঠানে পরিণত করতে পেরেছেন তার বিশ্বাস ও একাগ্রতার কারণে। তিনি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করেন এদেশের মাটি ও মানুষের শক্তি ও সম্ভাবনাকে। তিনি আরও বিশ্বাস করেন, এদেশের মাটিতে সোনা ফলাতে পারে। তিনি অনুধাবন করেন, উর্বর মাটি আর মিষ্টি পানির বাংলাদেশ এক অমিত সম্ভাবনার দেশ।
আমি দেখেছি, এদেশের মানুষের ওপর শাইখ সিরাজের আস্থা অপরিসীম। তিনি বিশ্বাস করেন নিরক্ষর হলেও, অপুষ্টিতে ভুগলেও, আর্থিক সামর্থ্য সীমিত হলেও, আমাদের জনগণ কোনো অংশেই কারও থেকে কম নয়। বিশেষত মেধা, সৃষ্টিশীলতা ও কর্মোদ্যমের দিক থেকে। তিনি বিশ্বাস করেন কবি নজরুলের সেই বিখ্যাত উক্তিতে, ‘বাঙালী তুমি ক্ষুদ্র নও, তুমি তুচ্ছ নও।/ একবার জেগে ওঠ, দেখবে তুমিও বিশ্ব বিজয়ী হতে পার’। এ আশা থেকেই তিনি এদেশের সাধারণ মানুষের কাছে গিয়েছেন এবং তাদেরকে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। একজনের সফলতার কাহিনী তুলে ধরে অন্যদেরকে প্রেরণা যুগিয়েছেন। তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করেছেন। একটি দৃষ্টান্ত ক্যামেরাবন্দি করে প্রচারের মাধ্যমে তিনি হাজারও কথার প্রয়োজনীয়তা দূর করেছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন, চোখে দেখার মাধ্যমেই মানুষের মনে বিশ্বাসের উদ্রেক হয়। আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির বাইরেও শাইখ সিরাজ উপস্থাপিত বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘মাটি ও মানুষ’ ও পরবর্তীকালে চ্যানেল আই-এর ‘হৃদয়ে মাটি ও মানুষ’ অনুষ্ঠান আরও দু’ভাবে বাংলাদেশের জন্য বিরাট অবদান রেখে চলেছে। প্রথমত, এর মাধ্যমে দেশের যুব সমাজের উল্লেখযোগ্য অংশের একটি অর্থবহ কার্যক্রমে নিয়োজিত ও ব্যস্ত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। দ্বিতীয়ত, এ অনুষ্ঠান দেশের ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর খাদ্য ও পুষ্টির অভাব পূরণে অনেকটা সহায়তা করেছে। আমার দেখায়, শাইখ সিরাজ নিজেও একজন অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী, আত্মপ্রত্যয়ী ও সাহসী মানুষ। সত্যিকারের দেশপ্রেমিক এবং ভিশনারি। তিনি দেশের স্বার্থে কথা বলেন, মানুষের কল্যাণে কাজ করেন। তিনি সকলের সম্মিলিত ভবিষ্যতের কথা ভাবেন। পরিশেষে এটি সুস্পষ্ট যে, বাংলাদেশের জন্য একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও আত্মনির্ভরশীল ভবিষ্যৎ সৃষ্টির ক্ষেত্রে শাইখ সিরাজ ইতিমধ্যে অসামান্য অবদান রেখেছেন।

প্রকাশিত গ্রন্থ: মৎস্য ম্যানুয়েল, মাটি ও মানুষের চাষবাস, ফার্মার্স ফাইল, মাটির কাছে মানুষের কাছে, বাংলাদেশের কৃষি : প্রেক্ষাপট ২০০৮, কৃষি ও গণমাধ্যম, কৃষি বাজেট কৃষকের বাজেট (সম্পাদিত), আমার স্বপ্নের কৃষি, কৃষি বাজেট কৃষকের বাজেট (২০১১), সমকালীন কৃষি ও অন্যান্য প্রসঙ্গ (২০১১)

পুরস্কার: একুশে পদক (১৯৯৫), জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার এএইচ বুর্মা অ্যাওয়ার্ড (২০০৯), বৃটেনের বিসিএ গোল্ডেন জুবিলি অনার অ্যাওয়ার্ড, বাংলাদেশ ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএ) পদক (২০১১) , এছাড়া ২০১১ সালে যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমন্স পেয়েছেন বিশেষ সম্মাননা।

মাটি ও মানুষের কিংবদন্তি শাইখ সিরাজ Reviewed by on . এইচ এম দুলাল:: শাইখ সিরাজ নামটা শুনলেই যেন শ্রদ্ধা ও ভালাবাসায় হৃদয় ভরে যায়। কৃষি উন্নয়ন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ ১৯৫৪ সালের ৭ই সেপ্টেম্বর  চাঁদপুরে জন্ এইচ এম দুলাল:: শাইখ সিরাজ নামটা শুনলেই যেন শ্রদ্ধা ও ভালাবাসায় হৃদয় ভরে যায়। কৃষি উন্নয়ন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ ১৯৫৪ সালের ৭ই সেপ্টেম্বর  চাঁদপুরে জন্ Rating: 0

আপনার মন্তব্য দিন

scroll to top