শিরোনাম

হাবলাউচ্চ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান

| ৩১ জানুয়ারি ২০২০ | ৮:২৮ অপরাহ্ণ

হাবলাউচ্চ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান

হাবলাউচ্চ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ২০২০ খ্রী. শিক্ষাবর্ষের এসএসসি পরিক্ষার্থীদের ২৭/১/২০২০খ্রী. সোমবার ছিলো বিদায় অনুষ্ঠান। সাথে ছিলো অত্র স্কুলে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আগত। নতুন ছাত্র ছাত্রীদের বরণ করে নেওয়ার বিশেষ দিন। এই দিনটি উদযাপন উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছিল বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান ও বিশেষ দোয়া মাহফিল। প্রায় সাতশো ছাত্র ছাত্রীদের অংশগ্রহণ এবং অবিভাবকদের উপস্থিতিতে স্কুল প্রাঙ্গণ হয়ে উঠেছিলো আনন্দঘন পরিবেশ।

এই অনুষ্ঠানের দিনে আরও একটি দিক ছিলো হাবলাউচ্চ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির নবনির্বাচিত সভাপতি এবং সদস্যদের পরিচিত পর্ব! এতে অত্র স্কুলের চারপাশের গ্রামের শত শত মানুষের অংশগ্রহণ ছিলো চোখে পরার মতো। এর আগে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের মধ্যদিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। এতে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সভাপতি শেখ মহসিন সাহেব। বর্তমান সভাপতি জসিম উদ্দিন জজি মিয়া সহ অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মমিনুল ইসলাম ও অন্যান্য শিক্ষক শিক্ষিকা, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

প্রথম পর্বে বিদায়ী ছাত্র ছাত্রীদেরকে ফুল দিয়ে শেষ বিদায়ের শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং নবীন ছাত্র ছাত্রীদেরকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন স্কুল কৃর্তৃপক্ষ। উভয় ক্ষেত্রেই উপস্থিত সবাই হাত তালি দিয়ে তাদেরকে গ্রহণ করেন। তাঁরপর শুরু হয় বিদায়ী ছাত্র ছাত্রীদেরকে জুনিয়র ছাত্র ছাত্রীদের দেওয়া বিশেষ শুভেচ্ছা উপহার। এতে ছিলো বিভিন্নপ্রকার শিক্ষাসহায়ক সামগ্রী। বিদায়ী ছাত্র ছাত্রীদের মধ্য থেকে অনেকে বক্তব্য রাখার কালে স্বরণ করেন অত্র বিদ্যালয়ে থাকাকালীন সু-সময়ের কথা! স্মৃতির পাতার অনেক কথা তুলে ধরে আনন্দের মাঝে চোখে জ্বল নিয়ে এসেছিলেন উপস্থিত সবার!

দ্বিতীয় পর্বের শুরুতে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অনেকে স্কুল তথা অত্র এলাকার শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর উপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন বিগত দিনের শিক্ষার্থীদের ফলাফলকে লক্ষ্য রেখে আরও এগিয়ে নিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। স্কুল কমিটির নতুন সভাপতি জসিম উদ্দিন (জজ মিয়া)তাঁর বক্তৃতায় বলেন বিগত চল্লিশ বছরে যা হয়নি সেটা বিগত দুবছর চলমান কিংবা আগামী দু’বছরের মধ্যে টার্গেট পূর্ণ করা হবে। তিনি বলেন আমাদের লক্ষ্যমাত্রা বর্তমান ৮৭% পাসের হার থেকে উন্নতি করে শতভাগ পাসের রেকর্ড করার প্রত্যাশার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।

সবশেষে বক্তব্য রাখেন অত্র বিদ্যালয়ের উন্নয়নের রূপকার, এলাকাবাসীর অলংকার, সুলতানপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ মতিউর রহমান সাহেবের সুযোগ্য পুত্র শেখ মহসিন সাহেব। তিনি তাঁর বক্তৃতায় বলেন শূন্য থেকে (৭০টাকা জমা) চল্লিশ বছরের হিসাব নিয়ে মাত্র দু’বছরে কোটি টাকার উন্নয়ন করেছি। স্কুলের পুকুর ভরাট করেছি। স্কুলে মসজিদ করেছি যা আগে ছিলনা। বাউন্ডারি করেছি, স্কুলটির অবকাঠামোগত সবকিছু নতুনভাবে তৈরি করতে হচ্ছে। এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন আপনারা জানেন এই স্কুলটি দূর্নীতিবাজদের কবলে ছিলো। বিগত চল্লিশ বছর কোনপ্রকার উন্নয়ন হয়নি!

তিনি আরও বলেন স্কুলের শিক্ষাব্যবস্থা নতুনভাবে দাঁড় করিয়েছি। এখানে আগের মতো আর দূর্নীতি হবেনা। ছাত্র ছাত্রীদের পড়াশোনা কিংবা রেজাল্ট ভালো করতেই হবে। ছাত্র ছাত্রীদেরকে সুশৃঙ্খল হিসেবে গড়ে তুলা হয়েছে বা হচ্ছে। ছেলে মেয়েদেরকে ডিসিপ্লিন শেখানো মোতাবেক সবকিছুর নিয়ম কানুন অবগত করা হয়েছে। এমনকি ছাত্রদের মাথার চুল পর্যন্ত নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসা হয়েছে। এই স্কুলকে নিয়ে যেতে চাই সাফল্যের চূড়ায়। শিক্ষকদের কঠোর পরিশ্রমের কথা উল্লেখ করে বলেন, সম্পূর্ণভাবে স্বাধীন স্বাভাবিক হয়ে শিক্ষাদান কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। আপনারা আমাদের ভালোবাসার সমস্ত জায়গায় আধিপত্য বিস্তার করে আছেন। সেই জায়গায় যেন সবসময় রাখতে পারি সেটাই কামনা করি।

পরিশেষে মহসিন সাহেব এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করে বলেন-আর কয়েকটি বছর আমাকে দিন, আপনার সন্তানকে আমি সেরা মানুষ বানিয়ে আপনার কাছে ফিরিয়ে দেব। সবশেষে সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেষ করেন বক্তৃতা!

📷ছবিগুলো তুলেছেন সাইফুর রহমান বিজয় (শিলাউর)
লিখেছেন এম নাসির নাগরিক সাংবাদিক টোয়েন্টিফোর ডটকম

Facebook Comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

সংবাদ ও সাংবাদিকতা কি?

প্রবাসীদের ইউটিউব থেকে আয়

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০