শিরোনাম

সংবাদ উপস্থাপনার প্রস্তুতি

এইচ এম দুলাল | ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ৮:০৮ পূর্বাহ্ণ

সংবাদ উপস্থাপনার প্রস্তুতি

সংবাদ উপস্থাপনা বর্তমান সময়ে একটি মর্যাদাপূর্ণ ও আকর্ষণীয় পেশা। অনেকেই এখন এ পেশায় নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে আগ্রহী।
“সংবাদ উপস্থাপনা” ক্যারিয়ারের পাশাপাশি নিজেকে সেলিব্রেটি করার জন্য এই পেশায় তরুণদের ভিড় বাড়ছে। তাই আগে যেখানে মুষ্টিমেয় লোক আবেদন করত, এখন সেখানে হাজার হাজার আবেদন করে।
গত পর্বে আমারা আলোচনা করছিলাম সংবাদ উপস্থাপনায় প্রস্তুতির কথা। এ তে শুদ্ধ ভাষায় কথা বলার গুরুত্বসহ করনীয় তুলে ধরা হয়েছে। আজ আমরা শিশু সাংবাদিকতা ও সংবাদ উপস্থাপনার প্রস্তুতির দ্বিতীয় ধাপ মনের ভয় দূর করা নিয়ে আলোচনা করছি-

মনের ভয় দূর করা:
কথায় আছে “বনের বাঘে খায় না মনের বাঘে খায়।” এ সমস্যা ছোট বড় সবার মাঝেই সমান। সবাই নিজের মনের ভয় কে জয় করাই অনেক কঠিন কাজ বলে মনে করেন।প্রথমত লজ্জা থেকে এর জন্ম। বাথরুমে ভালো গান গাইতে পারলেও সেই ব্যক্তি দু একজন মানুষের সামনে এসে আর কিছুই করতে পারেন না। আওয়াজ যেন কোথায় হারিয়ে যায়। অনেক সাহসী মানুষ অথচ ক্যামেরার সামনে কাপাকাপি। গলাটা কেমন যেন শুকিয়ে আসে। হাটু কাঁপার শব্দে টেবিল নড়তে থাকে। হৃদ কম্পনও বেড়ে যায়।
এমন দৃশ্য আমরা প্রায় অনেক নবীন-প্রবীণ মানুষদের মাঝেই দেখতে পাই। বিশেষ করে যারা সংবাদ উপস্থাপনার অডিশনে আসেন তাদের অবস্থা খুবই ভয়াবহ।
নার্ভাস কাকে বলে! সংজ্ঞা সহ উদহারণও দেখতে পাওয়া যায়। অনেকে নিজের নাম এমনকি বাবার নামও ভুলে যান। বারাক ‍ওবামা, ট্রাম তো অনেক দূরের কথা অনেকে আবার নিজের দেশের প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতির নামও মনে করতে পারেন না। এর কারণ একটায়। ভয় আর ভয়।

তাই আপানার বা আপনার সন্তানের মনের ভয়কে দূর করার ব্যবস্থা করুন। ভয় দূর করতে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান লাগবেনা। শিশুদের মনের ভয় দূর করতে বাবার এবং পরিবারের সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। মনোবিজ্ঞানীদের গবেষনায় দেখা গেছে, যে পরিবারে ঝগড়া হয় বিশেষ করে বাবা মা সন্তানের সামনে উচ্চ স্বরে রাগারাগি করেন সেই পরিবারে বেড়ে উঠে লাজুক হয়ে। তাদের ভয় এবং জড়তা বেশি কাজ করে। তাই কখনো আপনার সন্তানের সামনে আর ঝগড়া করবে না।

শুধু সন্তানের জন্য নয় আপনার সুন্দর জীবন গঠনে আজই ঝগড়া, খারাপ আচরণ সহ সকল নেতিবাচক কিছুর ইতি টানুন।
ভয়কে দূর করতে তার সহ পাঠীদের সহযোগিতা নিন। স্কুলে বা বাসায় গল্প করতে সুযোগ দিন।
খেলাধুলা সহ সকল কোকারিকুলাম এ অংশ নিতে সন্তানকে উৎসাহ দিন। ক্লাসের ক্যাপটেন সহ স্কুলের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করতে উৎসাহিত করুন। স্কুলে শিক্ষা সফর, মিলাদের বা পূজারে চাঁদা তোলার দায়িত্ব নিতে উৎসাহ দিন।
সকালে শপথ বাক্য পড়ানো বা জাতীয় সঙগীত গাওয়াতে আপনার সন্তান যেন লীড দেয় বা স্কাউটিং থেকে সকল কিছুতে আপানার সন্তানযেন অংশ নেয় তা নিশ্চিত করুন।
স্কুলে বির্তক প্রতিযোগিতা, কবিতা আবৃত্তি, উপস্থিত বক্তব্য, গান বা বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতা অংশ নিতে সুযোগ দিন।
সন্তানকে শুধু বইয়ের পোকা বানাবেন না। চার দেয়ালে বন্ধী করেও রাখা ঠিক হবে না। মোবাইল কম্পিউটারের বা টিভি সেটে বেশি যেন আটকে না যা সে দিকে খেয়াল রাখুন।
অনেকে বড় সাহসী ব্যক্তি চাকরি ইন্টারভিউ দিতে চাচ্ছেন, নার্ভাস লাগছে? অস্বাভাবিক কিছু নয়।
একটি ভালো চাকরি আপনার দৈনন্দিন অনেক সমস্যা সমাধান করে দিতে পারে। কিন্তু যোগ্যতা থাকার পরও অনেকেই চাকরি পান না শুধুমাত্র নার্ভাসনেসের কারণে।
সহজ প্রশ্নের জানা উত্তরটা দিতে পারেন না কিংবা হ্যান্ডশেক করার সময় পড়ে যায় হাতের ফাইলটা।
এই সব হয়ে থাকে স্ট্রেসের কারণে। ভুলগুলো ছোট খাটো কিন্তু চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে এইগুলো অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। আপনি বা আপনার শিশুর ইন্টারভিউ স্ট্রেস বা এংজাইটি কমাতে পারেন কিছু কৌশলে।

স্টপমেথড মেনে চলুন:
কার্যনির্বাহী কোচ ক্রিস চ্যারিক যেকোনো স্ট্রেস কমানোর জন্য একটি কৌশল বলে দিয়েছেন, তা হলো “STOP”।
S- (স্টপ) আপনি যা চিন্তা করছেন তা বন্ধ করে নিজের লক্ষ্যের দিকে ফোকাস করুন।
T- (টেক) কয়েকবার চোখ বন্ধ করে শ্বাস গ্রহণ করুন।
O- (ওবজারভ) নিজের দিকে লক্ষ্য রাখুন, নিজের মন, আবেগ, অনুভুতি বোঝার চেষ্টা করুন।
P-(প্রোসিইড) নিজেকে শান্ত রাখার জন্য চেষ্টা করুন।
এটি আপনার স্ট্রেস কমিয়ে আপনাকে কাজে আরো বেশি ফোকাস করে তুলবে।

সবচেয়ে বড় ভয় কী? প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন না? কোনো প্রশ্নের উত্তর না জানলে কী বলবেন, কীভাবে বলবেন সেটি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কয়েকবার অনুশীলন করে নিন। হয়তো বা এইরকম কোনো পরিস্থিতির সম্মুখিন পড়তে হবে না আপনাকে। তবুও প্যাকটিস আপনার ভয় কাটাতে সাহায্য করবে।
ইন্টারভিউয়ের আগে ক্যাফিন জাতীয় খাবার থেকে দূরে থাকুন। আপনি মনে করছেন কফি আপনার চিন্তা কমিয়ে দেবে, এটি আপনার ভুল ধারণা। ইন্টারভিউয়ের আগে হালকা কোনো খাবার খান। ভারী খাবার আপনাকে ক্লান্ত করে তুলবে।
নিজের সাথে কথা বলা অস্বাভাবিকতার লক্ষণ নয়। বরং এটি আপনার ভয় দূর করতে সাহায্য করবে। আপনি যখন চিন্তিত আপনার মস্তিষ্ক তখন আপনাকে নানানভাবে ভয় দেখাতে শুরু করবে। সে হয়ত বলবে, ‘আজকে তো নিশ্চিত আমি এলোমেলো বলব।’ আজ কোনভাবেই আমাকে দেখতে ভাল লাগছে না’। নিজেকে পাল্টা প্রশ্ন করুন। কথা বলুন নিজের সাথে। যুক্তি দিয়ে ঠান্ডা মাথায় মনকে বোঝান তেমন কিছুই হবে না, কারণ আপনি এবার যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়েছেন এবং এবার ভালো কিছু হবে।

শুধু ইন্টারভিউতে নয় সবজাগাতেই মনের জো বাড়াতে হবে। বাড়ির উঠান থেকে শুরু করে যত রকম সুযোগ আছে মনের ভয়কে দূর করাতে কাজে লাগাতে হবে। অনষ্ঠানে গান গাইতে পারেন। বন্ধুদের চুটকি শুনিয়ে মজা দেওয়ার পাশাপাশি নিজের সাহস বাড়ানো বা সবার সামনে কথা বলার অভ্যাস রপ্ত করতে পারেন। অফিসে মিটিং এ আপনার মতামত দিন। শিশুকে তার শিক্ষক এবং সহপাঠদের সামনে ক্লাশে পড়া নিয়ে প্রশ্ন করতে বলুন। স্যার আমার একটি কথা বা প্রশ্ন আছে..? বলতে উৎসাহ দিন।

সবারই স্বপ্ন থাকে ক্যমেরার সামনে আশার। জীবনে ক্যামেরার সামনে কেউ আসেন নি এমন লোক খুজে পাওয়া যাবেনা। সংবাদ বা অনষ্ঠান উপস্থাপক হিসাবে না হলে অন্তত নিজের ছবি তোলার জন্য হলে ক্যামেরার সামনে সবাই দাড়িয়েছেন। সেলফি তো আছেই…। ভয় পেলেও কাজটা কিন্তু করে থাকি খুব সহজে।

ফেসবুক লাইভে সুন্দর করে নিজে কথা বলুন এবং সন্তানকে উৎসাহিত করুণ। পড়ালেখা সহ যে কোন বিষয়ে মোইবাইলে তার কথা রের্কড করুন। এতে লজ্জা ভয় দুটোই দূর হবে। সবাইকে কাছে টেনে নিন । হাসি মুখে সবার খোজ খবর নিন। যে কোন ইতবাচক বিষয় নিয়ে আড্ডা দেওয়া যেতে পারে। কারন গল্প করেওে নিজের জ্ঞানের পরিধি বাড়ানোর সাথে সাথে মনের ভয় বা মুখের জড়তা দূর হয়ে যায়।
এ সকল অভ্যাস আপানার শিশু সন্তানকে বা আপনাকেও সাহসী করে তুলবে। শুধু সংবাদ উপস্থাপনার ক্যাররিয়ার নয় ব্যক্তি জীবনে অনেক উপকারে আসবে বলে আশা করছি।…….. (চলবে)

Facebook Comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

সংবাদ ও সাংবাদিকতা কি?

প্রবাসীদের ইউটিউব থেকে আয়

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০