শিরোনাম

লেখালেখি যখন ক্যারিয়ার

এইচ এম দুলাল | ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ৮:১৯ পূর্বাহ্ণ

লেখালেখি যখন ক্যারিয়ার

লেখক হওয়ার স্বপ্ন আপনার, আমার এবং সবার। তবে লেখালেখির শুরুতে সবারই প্রায় একটিই প্রশ্ন থাকে কী লেখব? কীভাবে লিখব? তাদের কথা মাথায় রেখেই শুরু করছি- আজকের এ আয়োজন। আপনার প্রতিভা, আপনার নিজের মত করে কাজে লাগিয়ে ক্যারিয়ার তৈরির একটি ক্ষেত্র লেখালেখি। শুধুমাত্র লেখনি শক্তিকে কাজে লাগিয়ে পৃথিবীতে অনেকেই বিখ্যাত হয়েছেন, উপার্জন করেছেন এবং মানুষের হৃদয়ে চিরদিনের জন্যই জায়গা করে নিয়েছেন। তাই ক্যারিয়ার অর্জনের হাতে খড়িতে নিু লিখাটি আপনার কলমকে করবে আরো গতিশীল এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
কোথায় লেখবেন:
লেখক হওয়ার যতগুলো সুযোগ রয়েছে এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সুযোগ পাবেন পত্রিকা এবং সাময়িকীর মাধ্যমে। দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক, ত্রৈমাসিক পত্রিকা বা যেকোন সাময়িকীতে লেখালেখি শুরু করতে পারেন। মনের সব বিষয়েই লেখার সুযোগ রয়েছে এর মধ্যে। সাংবাদিক হতে ইচ্ছে হলে রিপোর্ট লিখুন। আরো লিখতে পারেন ফিচার সমস্যা এবং সম্ভবনা নিয়ে লিখতে পারেন কলাম, উপসম্পাদকীয়, মতামত ও চিঠিপত্র এবং পরবর্তী সময়ে আপনার লেখাকে আরো সমৃদ্ধ করে তা বই আকারে প্রকাশ করুন।
গল্প লিখুন:
অনেক লেখকই রয়েছেন যারা তাদের সুন্দর গল্পের মাধ্যমেই খ্যাতি অর্জন করেছে এবং জীবনে প্রতিষ্ঠিতও হয়েছেন। বাংলা সাহিত্যে যারা খ্যাতি অর্জন করেছেন তাদের কথায় পরে আসছি। ইংরেজি সাহিত্যের সর্বাধিক গ্রন্থ প্রণেতা ও সর্বাধিক জনপ্রিয় লেখক চার্লস ডিকেন্সের কথা বলছি। তিনি যখন প্রথম লেখা শুরু করেন, লোকে ঠাট্টা তামাসা করবে এই ভয়ে অত্যন্ত ভীত ছিলেন। তাঁর প্রথম লেখা গল্পটি তিনি গভীর রাতে ডাক বাক্সে ফেলে আসেন যাতে কেউ জানতে না পারে। তাঁর বযস যখন বাইশ তখন তাঁর প্রথম গল্প সত্যিই ছাপা হল, তিনি আনন্দে কাঁদতে কাঁদতে রাস্তায় ছুটাছুটি শুরু করলেন। অবশ্য ঐ গল্পের জন্য সে একটা টাকাও পত্রিকা থেকে পারিশ্রমিক পাননি। এর পর তার আটটি গল্পের জন্যও কোন পারিশ্রমিক বা সম্মানী পেলেন না। শুরুতে কিছু না পেলেও পরবর্তী জীবনে গল্পের প্রতিটি শব্দের জন্য পেয়েছেন পনের ডলার। অর্থাৎ সর্বযুগের সকল লেখকের মধ্যে এটাই ছিল সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক। তাঁর প্রথম গল্পের বইটি প্রথম দিনেই বিক্রি হয়েছিল এক হাজার কপি। পনের দিনে বিক্রি হয়েছিল পনের হাজারেরও বেশি। তাঁর গল্প প্রায় সব ভাষাতেই অনুবাদ হয়েছে। আসুন আমরাও চেষ্টা করি। প্রাণন্তকর চেষ্টাই আনতে পারে সফলতা।
উপন্যাস লিখুন:
বর্তমান সময়ের প্রায় সব পাঠকের কাছেই উপন্যাসের চাহিদা একটু বেশি। একেক ধরনের পাঠক একেক রকমের উপন্যাস পছন্দ করে। কেউ পছন্দ করে রোমান্টিক আবার কেউ সামাজিক কেউ ঐতিহাসিক। তাই পছন্দের যেমন শেষ নেই তেমনি উপন্যাসের রকমেরও শেষ নাই। পাঠকের এ চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে অনেকেই উপন্যাস লেখা শুরু করেছেন। তাই আপনিও উপন্যাস লেখে জনপ্রিয় লেখক হতে পারেন। আপনার এ উপন্যাস কে সামনে রেখেই মিডিয়া বা চলচ্চিত্রে নির্মান হবে শরৎচন্দ্র বা হুমায়ন আহমেদের মত কোন এক জনপ্রিয় সিরিয়াল।
প্রবন্ধ/নিবন্ধ লিখুন:
প্রবন্ধ আর নিবন্ধ আমাদের কাছে অতি পরিচিত একটি বিষয়। চোখ বন্ধ করে একটু ভেবে দেখুন। ছোট্ট সময়ে শিক্ষক যখন পাঠশালায় প্রবন্ধ, নিবন্ধ লিখতে দিত তখনই কিন্তু আমরা বিভিন্ন বিষয়ে সহজেই লিখে ফেলতাম। ছোট সময়ে শেখা বিষয়টি এ বয়সেও কাজে লাগাতে পারেন। বিভিন্ন বিষয়কে সামনে রেখে প্রবন্ধ, নিবন্ধ রচনার মাধ্যমেও আপনি আপনার লেখালেখি শুরু করতে পারেন।
নাটক লিখুন:
নাটকলেখার মাধ্যমেও আপনি আপনার লেখালেখি শুরু করতে পারেন। আপনার শিক্ষা-দীক্ষা, ধন-সম্পদ যাই থাকনা কেন, হতাশ হওয়ার কোন কারণ নেই। পৃথিবীর ইতিহাসে এ পর্যন্ত সর্বযুগের সর্ব শ্রেষ্ঠ নাট্যকার উলিয়াম শেকসপিয়ার মাত্র তের বছর বয়সে স্কুল ছেড়েছেন। শিক্ষক মন্তব্য করেছিল ‘‘বাবা তোমার ভবিষ্যৎ অত্যন্ত অন্ধকার’’। স্কুল ছেড়ে বালক শেক্সপিয়ার অভাবের সংসারে গরুও দুধ দোয়াতেন ভেড়ার লোম ছাড়াতেন, মাখন বানাতেন আর কাচাঁ চামড়া ছাড়াতে বাবাকে সাহায্য করতেন। তাঁর পরিবারের কেউ লেখাপড়া জানতেন না। অথচ তিনিই বিশ্বসাহিত্যাঙ্গনে শুধূ মাত্র নাটকের মাধ্যমে এক অভূতপূর্ব প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁর নাটকের প্রতিটি মূলকপির মূল্য নিউইয়র্কের বাজারে সিকি মিলিয়ন ডলার। নাটক লেখে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন সমারসেট মম। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ নাটকের একটির নাম ‘‘রেইন’’। এ নাটকের জন্য তিনি পেয়েছিলেন দু’লক্ষ ডলার। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হল নাটকটি লেখতে তার সময় লেগেছিল পাঁচ মিনিটেরও কম সময়।
ব্যবহারিক বিষয়ে লিখুন:
আপনার অতি প্রয়োজনীয় বিষয় নিয়েই লেখালেখি শুরু করতে পারেন। আপনি পেশায় যদি ছাত্র হোন, তা হলে আপনি আপনার অধ্যয়নের বিষয় নিয়েই লেখালেখি শুরু করুন। অর্থাৎ যে বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। ইংরেজি বা বাংলা সাহিত্যের ছাত্ররা ঐ সাহিত্যের উপরই আজীবন লেখালেখি করতে পারেন এবং নিজকেও একজন প্রতিষ্ঠিত কবি-সাত্যিক বা লেখক হিসাবে তৈরি করতে পারেন। অর্থনীতির ছাত্ররা অর্থনীতি নিয়ে, রাজনীতির ছাত্ররা রাজনীতি নিয়ে, সমাজকর্ম বা সমাজবিজ্ঞানের ছাত্ররা সমাজ নিয়ে, ইতিহাসের ছাত্ররা লিখুন ইতিহাস নিয়ে, ইসলামিক স্টাডিজ যারা পড়ছেন তারা লিখুন ইসলামকে নিয়ে, নৃবিজ্ঞানের ছাত্ররা লিখুন মানব সভ্যতার ইতিহাস নিয়ে, যারা আইন পড়ছেন তারা লিখুন আইনের প্রাত্যহিক ব্যবহারিক বিষয়ে, বাণিজ্য বিভাগে যারা পড়ছেন তারা লিখুন দেশবিদেশের ব্যবসা- বাণিজ্য যে, মেডিকেলের ছাত্ররা লিখুন চিকিৎসা বিষয়ক লেখা, যারা বিজ্ঞানে পড়ছেন তারা লিখতে পারেন বিজ্ঞান এবং তথ্য-প্রযুক্তি লেখা, আপনার পাঠ্য সিলেবাসকে তার রেখে ঠিক তত্ব এবং তথ্য দিয়েই প্রবন্ধ/নিবন্ধ লিখুন। আর এটা আপনার জন্য এক ঢিলে দুই পাখি মারার কাজ দিবে। পরীক্ষার খাতা আর পত্রিকার পাতা দু’টিতে আপনি সফল হবেন।
আপনি শিক্ষক, ছাত্রদের জন্য যা করেন ঐ বিষয়ে লেখালেখির মাধ্যমে তা করতে পারেনন গোটা জাতির জন্য। তাই আপনিও লিখুন। আপনি যদি ব্যবসায়ী হোন, তা হলে আপনার পণ্যের গুণের কথাই লিখুন যা পড়ে ক্রেতারা আকৃষ্ট হবে। আপনি রাধুনী, লিখুন রান্না কী ভাবে করতে হয়। আপনার লেখা পড়ে দেশের গৃহিনীরা রান্না শিখবে। আপনি যদি রাজনৈতিক অঙ্গনে কাজ করেন তা হলে বতৃতা শোনান লেখালেখির মাধ্যমে। আপনি যদি ধর্মের প্রচারক হন তা হলে মানুষকে সত্যের কথা জানান লেখালেখির মাধ্যমে। মনে রাখবেন আপনার লেখা আপনার একটি সম্পদ এবং স্থায়ী সংরক্ষণ। যা মানুষকে চিরকাল পথ দেখাবে।
কবিতা লিখুন:
আপনি কি কবিতা লিখতে পারেন ? তা হলে কবিতা লিখুন। কবিতার মাধ্যমে ছড়িয়ে দিন মনের কথা। আপনার কবিতাটি হতে পারে সমাজ বির্ণিমানের হাতিয়ার। কবিতার মাধ্যমেই বলতে পারেন গরীব-দুঃখী, নিপীড়িত-নির্যাতিত, বঞ্চিত মানুষের কথা, লিখতে পারেন কুসংস্কার, অনিয়ম আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে, লিখতে পারেন সমাজ, দেশ জাতি তথা সমগ্র বিশ্বকে পরিবর্তনের কথা। ভাবুন রবীন্দ্রনাথ, কাজী নজরুল ইসলাম, ফররুখ, জসীম উদ্দীন, জীবনন্দ দাশ, কবি আল মাহমুদ, কীভাবে কবিতা দিয়েই শ্র্ষ্ঠেত্য লাভ করেছেন। শেখ সাদী, আল্লামা ইকবাল, ফেরদৈাসী, হোমার, মিল্টন এদেরকে আমরা মনে রেখেছি আজীবন। বাংলা সাহিত্যের প্রথম নোবেল পুরস্কারটাও এসেছে এই কবিতার মাধ্যমে। তাই সুন্দর কবিতা লেখার মাধ্যমেই শুরু হোক আপনার লেখালেখি।
ছড়া লিখুন:
হ্যাঁ, ছড়ার মাধ্যমেও আপনি লেখক হতে পারেন। মানুষের মনের মধ্যে ছড়ার মাধ্যমে অতি সহজেই প্রবেশ করতে পারা যায়। ছন্দে আর আনন্দ থাকার কারণে সবাই তা পছন্দ করে। বিশেষ করে শিশুরা ছড়াকেই বেশি ভাল বাসে। ছড়ালেখা কোন ছোট্ট বিষয় নয়। প্রায় বড় বড় সকল লেখকেরাই ছড়া লিখতেন। মজার কথা হল মানুষ ছড়াকে মনে রাখে অনেক দিন। একবার ভেবে দেখুন ছোট্ট সময়ের শেখা ছড়াটা লেখকের নামসহই বলতে পারবেন।
সায়েন্স ফিকশন লিখুন:
কল্প কাহিনীতে বিজ্ঞানের গল্প আজকাল সাহিত্যের অঙ্গন বেশ জমে ওঠেছে। ছোট-বড় সবাই এখন সায়েন্স ফিকশনের পাঠক। তাই জনপ্রিয় হতে জনপ্রিয় বিষয়টি দিয়েই আপনার লেখালেখি শুরু করতে পারেন।
ভ্রমণ কাহিনী লিখুন:
অনেক লেখকই রয়েছেন যারা তাদের সুন্দর ভ্রমণ রচনার মাধ্যমেই খ্যাতি অর্জন করেছেন। ইবনে বতুতা, গ্যালিভার, জুলর্বানসহ বিশ্ববিখ্যাত পর্যটকদের ভ্রমণ রচনা শুধু ভ্রমণ কাহিনী নয় সর্বকালের জন্য সব ধরনের মানুষের জন্যই পথ পদর্শক। ইতিহাস, ভূগোল, তত্ত্ব-তথ্য, সাহিত্য, বিনোদন সবই রয়েছে তাদের ভ্রমণ কাহিনীর ছত্রে ছত্রে। আপনি আপনার ভ্রমণ কাহিনী লিখতে পারেন। এর মাধ্যমেই আপনার চোখ হবে শত-সহস্র জনের চোখ। আপনার মতই আপনার পাঠক ভ্রমণটি জানবে এবং দেখবে । আর আপনার হবে লেখক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ।
রম্যকথা লিখুন:
সবাই কম বেশি চেষ্টা করে হাসিখুশি জীবন। কেউ হাসতে চায় আবার কেউ হাসাতে চায়। হাসিখুশি থাকা এবং রাখা দুটিই অনেকেই অনেক অনেক কষ্টের কাজ বলে মনে করেন। অথচ এই হাসি দিয়েই বিশ্ব ভুবন জয় করেছেন। শ্রদ্ধাভাজন হানিফ সংকেত বা হুমায়ন আহমদকে। যাদেরকে আমি আপনি সবাই দল মতের ঊর্ধে থেকে ভালবাসি। চার্লি চ্যাপলিনও হেসে এবং হাসিয়ে বিশ্ববাসিকে শিখিয়েছেন, দেখিয়েছেন। হ্যাঁ, তাই আপনাকেই বলছি রম্যকথা লেখার মাধ্যমেও আপনি একজন জনপ্রিয় লেখক হতে পারেন।
স্মৃতিকথা লিখুন:
ফেলে আসা জীবনের প্রতিটা স্মৃতিই হৃদয়কে আন্দোলিত করে। বাস্তবতার কারনেই ব্যস্ত জীবনে আমরা সবস্মৃতিকে ধরে রাখতে পারি না। তাই স্মৃতিকে স্থায়ী ভাবে সংরক্ষণ করতে হৃদয় থেকে খাতায় বা বইয়ের পাতায় নিয়ে আসুন। তাই এ স্মৃতিকথা দিয়েই শুরু করতে পারেন আপনার লেখালেখি।
গান লিখুন:
এমন কণ্ঠশিল্পী কমই রয়েছেন যারা নিজে গান লিখেন। বর্তমানে অনেকেই এর মাধ্যমে অর্থ এবং সম্মান দুটিই পাচ্ছেন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রেডিও এবং টিভি চ্যানেলের চাহিদার আলোকে পেশাদার গীতিকারের চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই গান লেখাও হতে পারে আপনার লেখালেখির বিষয়।
স্ক্রীপ্ট লিখুন:
রেডিও এবং টিভি চ্যানেলের চাহিদার আলোকে হতে পারেন একজন স্ক্রীপট রাইটার। অভিনেতার অভিনয়, উপস্থাপকের উপস্থাপনা তখনই সুন্দর হয় যখন এর পিছনে থাকে স্ক্রীপট রাইটারের সুন্দর কোন স্ক্রীপট। এর মাধ্যমে অর্থ এবং সম্মান দুটিই অর্জিত হওয়া সম্ভব। তাই আপনিও হয়ে উঠুন একজন স্ক্রীপট রাইটার।
লেখা বই আকারে প্রকাশ করুন:
বই আপনার যে কোন লেখার স্থায়ী সংরক্ষণ। তাই লেখাকে বই আকারে প্রকাশ করুন। যদিও অনেকে বই প্রকাশকে রাজধানী শহরে বহুতল নির্মানের চেয়েও অনেক কঠিন মনে করেন। তার পরেও বলছি শত-সহস্র বাঁধা-বিপত্তি থাকার পরেও আপনার লেখাকে বই আকারে প্রকাশ করুন। কারণ আপনার প্রতিটি লেখাই আপনার অমূল্য সম্পদ। আর আপনার অনেক কষ্টের তৈরি করা লেখাটি বালির বাঁধের মতই হারিয়ে যেতে পারে শুধুমাত্র সংরক্ষণের অভাবে। অনেকেরই প্রশ্ন টাকা পাব কোথায়, প্রকাশকই বা কি ভাবে পাব। ছোট সময়ের প্রবাদ থেকেই বলছি- গুড় যেখানে পিঁপড়াও সেখানে অর্থাৎ আপনি ভাল লেখক হলে প্রকাশকই টাকাসহ আপনার পিছনে পিছনে পিঁপড়ার মতই সারি দিতে বাধ্য থাকবে।
সাংবাদিকতায় ক্যারিয়ার গড়–ন:
লেখালেখির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করা বা লেখালেখির স্থায়ী পেশা সাংবাদিকতা। পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে হলে মানুষকে একটি পেশা বেছে নিতে হয়। আর হাজারে পেশার মধ্যে সাংবাদিকতা একটি মহৎ সম্মানজনক চ্যালেনজিং পেশা। তবে এর সাথে আর অন্য দশটি পেশার পার্থক্য অনেক। সাংবাদিক হতে হলে যে তাকে সব বিষয় সম্পর্কে পুর্ণাঙ্গ ধারণা থাকতে হবে বিষয়টি এরকম নয়। তবে আপনাকে চোখ-কান খোলা রাখলেই চলবে। একজন সাংবাদিক একজন তারকার মত। সাংবাদিকতায় যারা আসেন তাদের জন্য সবচেয়ে বড় পুরস্কার হচ্ছে অগনিত মানুষের সাথে যোগাযোগের সুযোগ, সাক্ষাৎকার গ্রহণ এবং লেখার ক্ষমতা আপনাকে এমনভাবে তৈরি করবে যে, শুধু সাংবাদিকতার পেশাই নয়, আপনার সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হবে সাংবাদিকতা পেশার বাইরের জগতেও। মানুষের কাছাকাছি পৌচ্ছে এবং সম্মানই আপনার শ্রেষ্ঠ পুরস্কার। শিক্ষা, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অনুষ্ঠান ও সভা সেমিনারে আপনার প্রথম সারিতে বসার সম্মানজনক সুযোগ শুধু এ পেশাতেই সম্ভব, তাই সাংবাদিকতা একটি সেলিব্রেটি পেশা হিসাবে গ্রহণ করা হয়। বয়সে ছোট হলেও পেশাগত মর্যাদায় আপনাকে বিচার করবে মানুষেরা। কারণ সব সময় আপনি নিত্য নতুন ঘটে যাওয়া বিষয় গুলো মানুষের কাছে তুলে ধরতে পারছেন। সরাসরি সাংবাদিকতা ছাড়াও মিডিয়াতে সাংবাদিকতা সংশ্লিষ্ট কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। এ পেশা গুলোতে রয়েছে অনেক সম্মান এবং সম্মানী।
লেখালেখির প্রশিক্ষণ নিন:
যদিও অনেকে মনে করেন লেখালেখির প্রতিভা স্বয়ং স্রষ্টা প্রদত্ত তার পরেও এটা বাস্তব সত্য যে, লেখালেখির উপর প্রশিক্ষণ আর সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে যে কোন আগ্রহী মানুষকে একজন লেখক হিসাবে তৈরি করতে পারে। তাই যারা লেখক হতে চান এবং লেখালেখিকে অনিয়মতি বা অনিয়মত পেশায় পরিণত করতে চান তাদের উচিত সাংবাদিকতা বা লেখালেখি বিষয়ক কর্মশলায় অংশগ্রহণ করা।
লেখালেখি ও সাংবাদিকতায় সার্টিফিকেট কোর্স:
এই চ্যালেন্জিং পেশায় আসতে বর্তমানে সাংবাদিকতার উপর বিভিন্ন কোর্স করেও আপনি হতে পারেন একজন পেশাদার সাংবাদিক এবং লেখক। কোর্স করে আপনি বিভিন্ন পত্রিকায় আপনার লেখা পাঠাতে থাকুন ও সেই সঙ্গে আপনার বায়োডাটাও পাঠাতে থাকুন। সাংবাদিকতার উপর কোর্স পরিচালনা করছে এমন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পিআইবি ও বাংলাদেশ কমিউনিটি জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন -বিসিজেএ অন্যতম।
লেখক-এইচ এম দুলাল সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রশিক্ষক
hmdulalnk@gmail.com

Facebook Comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

সংবাদ ও সাংবাদিকতা কি?

প্রবাসীদের ইউটিউব থেকে আয়

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১