শিরোনাম

মায়ের কোলে ফিরে যেতে চায় নাদিয়া

ইশরাত শারমিন | ২০ জুলাই ২০২০ | ১১:৪৪ অপরাহ্ণ

মায়ের কোলে ফিরে যেতে চায় নাদিয়া

অসহায় নাদিয়া

রাজধানী ঢাকা মেগাসিটির শহর। এখানে বহু ধনী গরীবের বসবাস। কেউ ধনী, কেউ মধ্যবিত্ত আবার কেউ হতদরিদ্র যাদেরকে আমরা গরীব বলেই চিনি। এরা আবার বিভিন্ন পেশার সাথে জড়িত। গরীবেরা তাদের সন্তানদের খাবারের ব্যবস্থা করতে না পেরে ধনীদের বাসায় তাদের কলিজার টুকরা ছেলে মেয়েদেরকে কাজে লাগিয়ে দেয়। যাকে আমরা শিশুশ্রম নামেই জানি। শিশুশ্রম সরকারসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা কর্তৃক নিষিদ্ধ। তারপরও পেটের ক্ষুধা নিবারণের জন্য গরীবেরা তাদের সন্তানদের বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত করেন। তেমনি একটি পেশা হলো ধনীদের বাসায় কাজে দেয়া। নাদিয়া তেমনই এক অবুঝ শিশু।
ইদানিং রাজধানীতে হঠাৎ করেই বেড়ে চলেছে গৃহকর্মীদের নির্যাতন। লকডাউনের কারণে এর প্রকপতা বেড়ে চলেছে। আজ রাজধানীর মালিবাগেও এ ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছে। নতুনকণ্ঠ অনলাইন পত্রিকার বাণিজ্যিক সম্পাদক ইসরাত জাহান শারিমন প্রতিদেনর মতো আজ ২০-০৭-২০২০ খ্রিঃ তারিখ বিকালে হাতিরঝিলে হাঁটতে গেলে সেখানে একটি জটলা দেখতে পান। কৌতূহলবশতঃ জটলার কাছে গিয়ে দেখতে পান একটি ছোট্ট কোমলমতি শিশু কাঁদছিল। যার বয়স ১০-১২ বছর হবে। পরবর্তীতে তার সাথে কথা বলে জানা যায় সে হারিয়ে গেছে। সে তেমন কিছু বলতেও পারছে না। এদিকে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসায় ইসরাত জাহান শারমিন মেয়েটিকে নিয়ে নিকটস্থ তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় যান। সেখানে মেয়েটির জবানবন্দিতে উঠে আছে এক নতুন তথ্য। সে জানায় এক গৃহকর্মীর নির্যাতন সইতে না পেরে পালিয়ে আসে মায়ের কাছে চলে যাবার জন্য। তার মাও কোন এক বাড়ীর গৃহকর্মী। মায়ের ঠিকানা মেয়েটি না জানার কারণে পথে পথে ঘুরতে ঘুরতে একসময় হাতিরঝিলে চলে আসে। শারিরীক ও মানষিক নির্যাতনের কারণে মেয়েটিকে অস্বাভাবিক আচরণ করতে দেখা যায়। মেয়েটি তার নাম নাদিয়া বলে। তার বাবার নাম আব্দুল লতিফ আর মায়ের নাম শরিফা বেগম। তার দাদার নাম ছাত্তার লেংড়া। গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার বিদ্যাগঞ্জের একটি গ্রামে। তারা তিন বোন এবং এক ভাই। তার গায়ে গৃহকর্তী দ্বারা নির্যাতনের কিছু চিত্র তখনও স্পষ্ট ছিল। কেউ মেয়েটিকে চিনতে পারলে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় যোগাযোগের জন্য অনুরোধ করা যাইতেছে।
ইতিমধ্যে মেয়েটিকে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিতে পুলিশও তাদের দায়িত্ব পালনে মাঠে নেমেছেন।
সমাজে আজ করোনার চেয়ে ভয়ংকর হয়ে দাঁড়িয়েছে মানুষের মানবতা। এতটুকু ছোট্ট একটি বাচ্চা মেয়েকে দিয়ে বাড়ির কাজ করায় তার উপর সামান্য যেকোন ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের উপর চালায় অমানবিক নির্যাতন। যেখানে শিশু শ্রম আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা করোনা থেকে কোনো শিক্ষা নিতে পারিনি। আমরা আমাদের চিরাচরিত রূপটাকেই ধরে রেখেছি। আর তাই আল্লাহর গজব আমাদের উপর এভাবে একের পর এক আসছে। এখনও সময় আছে আমরা এধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসি।
Facebook Comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

সংবাদ ও সাংবাদিকতা কি?

প্রবাসীদের ইউটিউব থেকে আয়

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০