শিরোনাম

দৃঢ় প্রত্যয়ের হোক, আমাদের অবসর

মুক্তি মতিয়া খান | ১৭ জুন ২০২০ | ১০:২৪ অপরাহ্ণ

দৃঢ় প্রত্যয়ের হোক, আমাদের অবসর

“বন্দী জীবন কাকে বলে অজানা নয়। জেলে ছিলাম  মাসের পর মাস। একাকিত্বের  প্রহার আর নিষ্ঠুর শৃঙ্খল। যুগপৎ  সন্ত্রাস আর বীভৎস  ভাইরাস—” —এই তো  হলো কবি র ভাষায়  আমাদের  বর্তমান  পরিস্থিতি। আমরা  সবাই  এখন  কতটা ভালো আছি? আমরা  তো ছুটি  তে থাকতে  পছন্দ  করি। পরিবারের সাথে  সময়  কাটালে আমাদের  মন ভালো থাকে।

এই তো দিব্যি আছি । খাওয়া -দাওয়া, ঘুম আর একটু আধটু অফিসে র কাজ   ও একটু সময়  অন লাইনে  বসলেই শেষ করা যায়। তাহলে  কেনো সকলে  বলছে আমরা  ভালো  নেই?? শুনছিলাম  পাশের  বিল্ডিংয়ের  দুই  মহিলা র কথোপকথন। তারা একে অপরকে  বলছিলেন , “আমরা  ভালো  নেই  আপা,কিছুই  ভালো  লাগছে  না  বুঝলেন।”—- একথার অর্থ  দাঁড়ায়  আমার  দৃষ্টিতে, আসলে  এই পরিবেশে আমরা  কখনো ই  অভ্যস্থ ছিলাম না। শুধু  আমরা  কেনো আমাদের  বাবা, চাচারা কিংবা  হয়তোবা  আমাদের  দাদারা ও এই রকম দীর্ঘদিন  বন্দী  জীবন  পার করেন নি।

আমরা ও তো কখনো  ভাবিনি  এরকম  দিন আসবে। আর শুনছি  আগামী তে  আমাদের  সচেতন হয়ে  চলতে  হবে, নিয়ম মেনে  চলতে হবে,পরিষ্কার -পরিচ্ছন্ন  থাকতে  হবে অনলাইন  সিস্টেম  আত্মস্থ  করতে  হবে আর অদৃশ্য  শত্রু  এই করোনা র মতো, এদের  মোকাবিলা  করার জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ও সামাজিক  নিরাপত্তা মেনে  চলতে হবে। আমি  মনে করি , আমরা  যে শিক্ষা টা এখান থেকে  পেয়েছি  এটা পৃথিবীর  কোনো   শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে  বড় ডিগ্রি  নিয়ে  আসা কেউ  অথবা  আমাদের  কোনো  প্রেসিডেন্ট  বা প্রধানমন্ত্রী  আমাদের শেখাতে  পারতেন  না বা বাধ্য করতেও  পারতেন না।

কিন্তু  নিয়তি  হায়রে  নিয়তি কি চরম শিক্ষা টা ই না দিয়ে  গেলো!!! এরপর  আমরা নিশ্চয়ই  এখানে ওখানে  থু থু, পানের পিক, কফ ফেলা বন্ধ  করবো। বন্ধ  করবো  যত্রতত্র  মল-মুত্র  ত্যাগ করা।ডাস্টবিন ছাড়া  এখানে ওখানে ময়লা ফেলা।এখন  থেকে  আর আমরা  হাত  না ধুয়ে  বেশি ক্ষন থাকবো না বা খাবার  স্পর্শ  করবো না।

ডাক্তারের পরামর্শ  নিয়ে  যেকোনো  ওষুধ  সেবন করবো। ঘরের  যে ছোট্ট  সোনামণি  টি আছে  ওকে  মোবাইল  হাতে  দিয়ে অথবা  অনলাইনে ল্যাপটপে বসিয়ে  মাথা  নষ্ট করা গেইম খেলতে  আর কোনো সচেতন  বাবা-মা  বলবে না। বরং বলবে  অনলাইনে  বসে  পড়াশোনা  করো, ক্লাস করো অথবা  জ্ঞান চর্চা  করো।

কারণ সময়  নষ্ট  করা এখন  আর  মোটেই  উচিত  হবে না। আর যেনো কোনো  ভাইরাস  এসে  আমাদের  জীবন  তচনচ  না করে তাই  আমরা  নিজেদের  আরো সমৃদ্ধ  করবো আর নিজেকে  সচেতন  নাগরিক  রূপে  গড়ে  তুলবো  — এই অবসরে এই হোক আমাদের  দৃঢ় প্রত্যয়।

Facebook Comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

সংবাদ ও সাংবাদিকতা কি?

প্রবাসীদের ইউটিউব থেকে আয়

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১