শিরোনাম

ছোটদের সংবাদ উপস্থাপনা

এইচ এম দুলাল | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ৮:২৭ পূর্বাহ্ণ

ছোটদের সংবাদ উপস্থাপনা

আজকের লেখাটা ছোট্ট সোনামনিদের জন্য। ছোটদের জন্য লেখাটা হলেও বড়দেরকেও জানাব কী ভাবে আপানার সোনামনির গণমাধ্যমে হাতে খড়ি হতে পারে। হ্যাঁ, কোন ট্রেনিং সেন্টারের প্রচারনা মূলক এ লেখাটি নয়। একজন বার্তা প্রযোজক বা নিউজ প্রডিউসার হিসাবে আমার বিগত দিনের অর্জিত সামান্য কিছু অভিজ্ঞতা গুলো থেকে ছোটদের জন্য তুলে ধরার চেষ্টা করছি মাত্র। এতে যদি কেউ উপকৃত হন তা হলেই আমি খুশি থাকতে চাই। আমার লেখার ভুলত্রটির জন্যও ক্ষমা চেয়ে নিলাম…।
আপনার ভাই অথবা বোন টিভি পর্দায় তার ক্যারিয়ার শুরু করতে পারে। কী ভাবে আপনার প্রিয় ভাগ্নে বা ভাগ্নিও স্কুল পড়া অবস্থায় কী তার আসনটি গণমাধ্যমে দখল করে নিতে পারে। তাই আজকের লেখাটি ছোট বড় সবার জন্যই সমান গুরুত্বের দাবি রাখে বলে আশা করছি। লেখার চেষ্টা করব খুব কম বয়সেও একজন শিশু কীভাবে তৈরি হতে পারে তার গণমাধ্যম ক্যারিয়ারের জন্য। তুলে ধরতে চাই বাবা মা এবং বড়দের করণীয় সম্পর্কে।

২. একুশে টিভির মুক্ত খবর বা এটিএন বাংলার আমারা করবো জয় অথবা দুরন্ত খবরের উদাহারণকে সামনে রেখে বলা যা বাংলাদেশে শিশু সাংবাদিকতা বা সংবাদ উপস্থাপনা খুব জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।
বিশেষ করে বলতে পারি ছোটদের জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা মুক্ত খবর একুশে টিভির একটি নিয়মিত কিশোরদের সংবাদ ভিত্তিক অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানে কিশোররা তাদের নিজের বিষয়গুলো তুলে ধরে সরাসরি সংশ্লিষ্ট সেই ন্থানে উপস্থিত থেকে। মুক্ত খবর অনুষ্ঠানটিতে প্রশিক্ষিত ৫০ জন রির্পোটার নিয়মিত কাজ করে। ইতোমধ্যেই সারা দেশে রয়েছে মুক্ত খবরের ১৪৭টি দর্শক ফোরাম ইউনিট ও ৩০টি জেলায় রয়েছে জেলা প্রতিনিধি।
বর্তমানে সম্প্রচারে থাকা নতুন বা পুরাতন অনেক চ্যানেলেই প্রস্তুতি চলছে ছোটদের খবর সম্প্রচার করা। প্রতি বছররের মিনা এওয়ার্ড প্রদান এ ক্ষেত্রে শিশু সাংবাদিকতা বা শিশু সংবাদ উপস্থাপনাকে ব্যাপক ভাবে উৎসাহিত করছেন। এই ক্ষুদে সাংবাদিকরা বড় হয়ে গণমাধ্যমে স্থায়ী ভাবে তাদের ক্যারিয়ার গঠন করছেন। তাই আপনিও আপনার সন্তানের গণমাধ্যম ক্যারিয়ারে সহযোগিতা করতে পারেন তার ছোট্ট সময় থেকেই। আপানার সহযোগিতা পেলে আপনার প্রিয় সন্তানও হতে পারে ভবিষতে কোন খ্যাতিমান সাংবাদিক বা সংবাদ উপস্থাপক।

৩. সাধারণ অর্থে উপস্থাপনা হলো বলা, পাঠ করা বা তথ্যের সুন্দর উপস্থাপনা করা। আমাদের দেশে সাধরনত ১৯৯৯ সালে বেসরকারি টেলিভিশন বিশেষ করে একুশে এবং এটিএন বাংলা এ দুটি চ্যানেল যাত্রার পর থেকে সংবাদকে নিজে বুঝে অন্যকে বলার মাধ্যমে বোঝানোর কাজটি শুরু করেন সংবাদ উপস্থাপকরা। এর হাত ধরে পরিপূর্ন বিকাশ লাভ করে বড় বা ছোটদের সংবাদ উপস্থাপনা।

বর্তমানে ‘সংবাদ উপস্থাপনা’ বিষয়টির পরিসর বেড়েছে বহুগুনে, সেই সাথে এর আকর্ষনীয়তাও। একসময় বলা হতো, খবর পাঠক তোতাপাখির ন্যায় কেবল সুনির্দিষ্ট স্ক্রিপ্ট পড়ে যান। এখন আর একথা বলার জো নেই। খবর পড়ে যাওয়াতেই সীমাবদ্ধ নেই আজকের সংবাদ পাঠকের দায়িত্ব। খবর তৈরীর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল কাজের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকতে হয় তাদের, যাতে করে স্বতস্ফুর্তভাবে খবরের তাৎক্ষনিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব হয়। তাই বর্তমানে কেবল সংবাদ পাঠক নন, তারা একেকজন সংবাদ উপস্থাপক বলা যায়।

ছোট বড় যারা ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তিত। কর্মহীন বসে আছেন । ছোটদের মত আপনিও সংবাদ উপস্থাপনায় ক্যারিয়ার নিয়ে যদি ভেবে থাকেন, তাদের বলব তাহলে এটাও ভাবুন উপস্থাপক হিসেবে আপনার যোগ্যতার মাপকাঠি কতটুকু? সুন্দর চেহারা, সুঠাম দেহ, পটু কথা কিংবা দ্রুত পড়তে পারলেই উপস্থাপক হওয়া যায় না। ভালো সংবাদ উপস্থাপক হতে হলে প্রয়োজন কিছু নিয়মনীতি অনুসরণ করা।

যে কোন উপস্থাপনাতেই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন শুদ্ধ উচ্চারন ও সঠিক বাচনভঙ্গি। এছাড়াও সংবাদ উপস্থাপনার সাথে সংশ্লিষ্ট নানাবিধ তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক বিষয় সম্পর্কে সমক্যজ্ঞান থাকলে আগ্রহী ও উদ্যোমীব্যক্তি মাত্রই একজন সফল সংবাদ উপস্থাপক হবার চেষ্টা করতে পারেন। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যাংকার, উকিল কিংবা শিক্ষকতার মতো সম্মানজনক পেশার অনেকেই কাজ করছেন উপস্থাপনা পেশায়। আপনার স্বপ্নকে বাস্তব করার জন্যে হয়তো চেষ্টার কমতি নেই, কিন্তু চেষ্টা কি সঠিক পথে করছেন? যদি সংবাদ উপস্থাপক হবার দৃড় প্রত্যয় থাকে নিজের মধ্যে, তা হলে আজই শুরু করুন।

৪.তবে আজ লিখব ছোট্টো সংবাদ উপস্থাপনার প্রস্তুতির কথা। ছোট বড় সবাইকে বলছি সংবাদ উপস্থাপনা বা অনুষ্ঠান উপস্থাপনার জন্য বাহিরে নয় সবার আগে নিজের ঘরকে প্রথম এবং প্রধান ট্রের্নিং সেন্টার বা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসাবে গ্রহণ করুন। যেহেতু শেখার কোন শেষ নেই তাই ঘরের প্রাথমিক কাজ শেষ করার পর জেনে বুঝে ভাল কোন প্রতিষ্ঠান বা প্রশিক্ষকের সহযোগিতা নিন। আসুন জেনে নেই প্রস্তুতির কথা-

(ক) শুদ্ধ ভাষায় কথা বলা: শুধু উপস্থাপনা নয়, নিজে এবং নিজের সন্তানকে তার সুন্দর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে পারিবারিক জীবনে একে অপরের সাথে শুদ্ধ ভাষায় কথা বলার চেষ্টা করুন। পথে ঘাটে,হাঠে মাঠে সব খানেই এর ব্যবহার শুরু করুন। যদি পারেন তা হলে আঞ্চলিকতাকে সারা জীবনের মতে টাটা বা গুডবাই জানাতে পারেন। কিতা খবর ভালানি, কেমন আছত ফালানি, মনু কি ডাইলে লবন দেছে, আছাল, গেছাল আহমনি, যামনি খামু… এ কথালো আর নিজে বলবেন না বা সন্তানের সামনেও নয়। সব সময় গুছিয়ে সুনদর করে কথা বলার চেষ্টা আপনাকে করতে হবে।
লজ্জা পেলেন তো হেরে গেলেন। প্রথম লজ্জা বা জড়তা লাগলেও কিছু দিন পর ঠিকই অভ্যস্থ হবেন। রিকশা চালকের সাথে, আয়া বুয়া বা পিয়ন যেই হোক না কেন সবার সাথেই প্রমিত বাংলা উচ্চারণে নিজে এবং আপানার শিশুকে কথা বলার অভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করবেন। বন্ধু বা সহপাঠীদের সাথে বেশী বেশী সুন্দর করে কথা বলার তাগিদ এবং উৎসাহ দিন। যদি শুরুতেই কোন শিশু সুন্দর করে কথা বলতে পারে তা হলে তার ব্যক্তি জীবন বা সংবাদ উপস্থাপনার ক্যারিয়ার গড়তে এক ধাপ এগিয়ে থাকবে।

( আজ এ পর্যন্তই, ধন্যবাদ লেখাটি কষ্ট করে পড়ার জন্য। আগামী পর্বে নিয়মিত ভাবে লিখতে চাই শিশু সাংবাদিকতা ও সংবাদ উপস্থাপনার আরও কিছু প্রস্তুতির কথা… আপনারও যে কোন পরামর্শ বা মন্তব্য তুলে ধরতে পারেন )

 

 

Facebook Comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

সংবাদ ও সাংবাদিকতা কি?

প্রবাসীদের ইউটিউব থেকে আয়

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১