শিরোনাম

করোনা সময়ে পড়ালেখা ও শিক্ষার্থীদের করণীয়

ইশরাত জাহান শারমীন | ১৭ জুন ২০২০ | ৯:২০ অপরাহ্ণ

করোনা সময়ে পড়ালেখা ও শিক্ষার্থীদের করণীয়

করোনা বর্তমান বিশ্বে এক আতঙ্কের নাম। যে আতঙ্কে থমকে গেছে সারা বিশ্ব। করোনার উৎপত্তিস্থল চীন। সারা বিশ্বে চার লাখের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। করোনায় আক্রান্ত দেশগুলো তাই সে দেশের অফিস আদালত থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সবকিছুই বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। ফলে অর্থনীতির সাথে সাথে শিক্ষা ব্যবস্থাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কিন্তু এভাবে তো চলতে পারে না। কেননা বেঁচে থাকার জন্য অর্থনীতির সাথে সাথে শিক্ষার ভূমিকা অপরিসীম।

কেননা শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। এজন্য আক্রান্ত দেশগুলো বাধ্য হয়েই প্রথমে সীমিত আকারে অফিস আদালত, ব্যবসা-বানিজ্য থেকে শুরু করে অর্থনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট সবকিছু খুলে দিয়েছে। আজকের শিক্ষার্থী আগামী দিনের ভবিষ্যত।

একথা যেমন সত্যি ঠিক তেমনি মানুষের বেঁচে থাকাটাও জরুরী। আর এ কারণেই আমাদের সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু করতে অনীহা প্রকাশ করেছেন। আমাদের শিক্ষামন্ত্রী যথার্থই বলেছেন, “এক বছর পড়ালেখা না করলে আপনার সন্তান মূর্খ হবে না, কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিলে অসংখ্য মায়ের বুক খালি হয়ে যাবে।”

সত্যি যথার্থই বলেছেন আমাাদের শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি। সালাম এই মহিয়সী নারীকে। তাই বলে এই ডিজিটাল যুগে কিন্তু থেমে নেই আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা। আমাদের সরকার জাতীয় সংসদ টিভিতে শুরু করেছে অনলাইন শিক্ষা। শিক্ষার্থীরা ঘরে বসে থেকে টিভির মাধ্যমে তাদের পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারছে। আবার অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনলাইনে তাদের স্কুলের শিক্ষকদের মাধ্যমে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা করাচ্ছেন, যা সত্যিই প্রশংসনীয়।

ফলে থেমে নেই আগামী দিনের ভবিষ্যতদের প্রয়োজনীয় পড়ালেখা। যদিও কিছু প্রতিবন্ধকতা থেকেই যায়। তারপরও এই আপদকালীন সময়ে পড়ালেখা তো থেমে নেই। এসময়ে শিক্ষার্থীদের বেশ কিছু করণীয় রয়েছে যেগুলো তাদেরকে মেনে চলতে হয়। করণীয়গুলো নিম্নরূপ:

(১) কোন অবস্থাতেই বাড়ির বাহির যাওয়া যাবে না। নিতান্তই প্রয়োজন হলে মুখে মাস্ক, হাতে গ্লাভস্, মাথায় টুপি পড়ে বাহিরে যাওয়া যেতে পারে। বাহিরে অবস্থানকালীন সময়ে মনে রাখতে হবে পাশের ব্যক্তির সাথে দূরত্ব যেন তিন ফিটের বেশি হয়।

(২) হাচি কাশি দেওয়ার সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক প্রণীত নীতিমালা মেনে হাচি কাশি দিতে হবে। হাচি কাশি দেয়ার সময় রুমাল অথবা টিস্যু ব্যবহার করতে হবে। ব্যবহৃত রুমাল যথাযথভাবে পরিস্কার করতে হবে অথবা টিস্যুর মতো ফেলে দিতে হবে।

(৩) ঘনঘন গরম পানি খেতে হবে। এক্ষেত্রে লেবুর চাও খাওয়া যেতে পারে। করোনা প্রথম অবস্থায় চার দিন গলায় অবস্থান করে। এসময় আক্রান্ত ব্যক্তির কাশির সাথে গলাব্যথাও হয়। গরম পানি ও চা খেলে করোনা পাকস্থলিতে চলে যায়। আর করোনা পাকস্থলিতে গেলে সে তার কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে।

(৪) অনলাইনে অথবা সংসদ টিভিতে দেয়া হোমওয়ার্কগুলো করতে হবে।

(৫) বাসায় বড়দের কাজে সহযোগিতা করতে হবে। পরিশেষে বলা যায় যে, করোনা নামের এই আতঙ্ক আমাদেরকে কোনভাবেই আটকে রাখতে পারবে না। আমরা আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে করোনার কারণে থমকে যেতে দেবো না। বরং এই করোনার মধ্যেও সবাইকে নিজ নিজ কাজ চালিয়ে যেতে হবে। করোনা আমাদের অর্থনীতি, ভবিষ্যত প্রজন্মের পড়ালেখা কোনকিছুকেই বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।

Facebook Comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

সংবাদ ও সাংবাদিকতা কি?

প্রবাসীদের ইউটিউব থেকে আয়

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০