শিরোনাম

করোনায় মানুষ হচ্ছে কর্মহীন

মুক্তি মতিয়া খান | ০৩ জুলাই ২০২০ | ৯:০৮ অপরাহ্ণ

করোনায় মানুষ হচ্ছে কর্মহীন

কর্মহীন মানুষ

করোনা ভয়াল থাবায় গ্রাস করছে মানুষ কে, ফলে মানুষ হয়ে পড়ছে কর্মহীন বাড়ছে বেকারত্ব। এর প্রভাব বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের মধ্যে। করোনা র কারণে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান, কল-কারখানা, গর্মেন্টস শপিংমল এ কর্মী ছাঁটাই অব্যাহত, স্কুল কলেজ সহ অনেক প্রতিষ্ঠান আর্থিক সংকটে পড়ার কারণে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছেন না। কেউ কেউ আবার অর্ধেক বেতন দিচ্ছেন। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান বাধ্য হচ্ছেন বন্ধ ঘোষণা করা র জন্য।

এছাড়াও ঢাকা শহরে প্রায় ৭০ লাখ ভাসমান মানুষের বাস কিন্তু দুর্ভাগ্য হলে ও সত্য যে, করোনা শুরু র পর হতে এপর্যন্ত কর্মহীন হয়েছে প্রায় ৪৫ হাজার মানুষ আর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ৫৫ লক্ষ মানুষ প্রায়। এমতাবস্থায় কেউ কেউ আবার কর্মহীন হওয়ায় গ্রামে ফিরে গেছেন আর কেউ আবার প্রস্তুতি নিচ্ছেন গ্রামে চলে যাওয়ার জন্য। এদের বেশির ভাগ ই পেশায় দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, রিকশা ওয়ালা কাজ না থাকায় আর্থিক উপার্জন নেই তাই পরিবারের মুখে দুবেলা খাবার তুলে দিতে পারছেন না তারা।সেই সাথে যুক্ত হয়েছে বাড়িভাড়া, তাই তাদের এই প্রত্যাবর্তন। শরীফউদদীন পেশায় রিকশা চালক, তিনি এক টেলিভিশন চ্যানেলে বলছিলেন, তিনি ঢাকায় থাকতেন।

ঢাকায় সাধারণ ছুটি শুরু হলে লোকজন বের হওয়া কমে যায় এবং উপার্জন প্রায় বন্ধ হয়ে যায়, সেইসাথে করোনা থেকে বাঁচতে তিনি তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ চলে আসেন। এখানে এসেও রিকশা চালিয়ে খাচ্ছেন কিন্তু নিজের বাড়িতে থাকা হয় বিধায় বাসাভাড়া দিতে হয় না।কিন্তু ঢাকায় যেখানে প্রতিদিন হাজার /বারো শো টাকা উপার্জন হতো বর্তমানে সেখানে চারশত /পাঁচশত টাকার বেশি আয় হয়না।এরমধ্যে দুই শতটাকা রিকশা মালিক কে জমা বাবদ,একশত টাকা নিজের পকেট খরচ ।বাকি থাকে দুইশতটাকা–এই টাকায় চারজনের সংসার চালানো দুরূহ ব্যাপার।

আমাদের দেশের মানুষের জীবিকা নির্বাহ প্রক্রিয়া শহর কেন্দ্রীক তাই শহরে জীবন জীবিকার সকল পথ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম এই শ্রেণির মানুষের। এদিকে মধ্য বিত্ত অনেক মানুষ কে চাকরি হারাতে হয়েছে অথবা উপার্জন কমে গেছে। বেশকিছু দিন তারা তাদের অল্প কিছু যা সঞ্চয় ছিলো সেটা ভেঙে ই চলছিলেন কিন্তু বর্তমানে খুবই খারাপ অবস্থা। সেজন্য বাসা ভাড়া, সন্তানের স্কুলের বেতন সহ আনুষাঙ্গিক দেনা গুলো মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।তাই বাসা ছেড়ে গ্রামের বাড়ি তে চলে যেতে হচ্ছে একপ্রকার বাধ্য হয়ে ই। সেক্ষেত্রে বাড়ি র মালিক যারা তাদের ও হাউস বিল্ডিং লোন সহ বিভিন্ন ব্যাংক লোন,বিদ্যুৎ বিল,পানির বিল ইত্যাদি মেটাতে গিয়ে তারাও পড়েছে ন বিপাকে। আর স্কুল কলেজ গুলোর বেশি র ভাগ ই শিক্ষার্থীদের বেতন নির্ভর হওয়ায় তারাও শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছেন না। বিপদে আছে শিক্ষকরা, বিপদে আছে জাতির মেরুদন্ড। শিক্ষকের পেটে ভাত না পড়লে,সে মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াবে কিভাবে?কিভাবে হবে ভবিষ্যত বিনির্মান?

এছাড়াও পত্র পত্রিকা র কাটতি কমে যাওয়ার সার্কুলেশন কমে গেছে ফলে অনেক পত্রিকাই সাংবাদিকদের বেতন দিতে পারছে না, এমতাবস্থায় তারাও কর্মী ছাঁটাই এর চিন্তা ভাবনায় পরেছেন। আর প্রবাসের অবস্থাও করোনার আঘাতে বিপরর্যস্ত, তাই রেভিডেন্স আসার নিশ্চয়তা কম।এভাবে যদি বেকারত্ব বাড়িতে থাকে আর করোনা কাল দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে সামনে ঘোর অন্ধকার। করোনা থেকে জীবন বেঁচে গেলেও স্বস্তির সাথে বেঁচে থাকা সুদূর পরাহত।।

google-site-verification=u7pPeDe770kHmcvgVw8uKTUg0n4x-VK9IyCshcxN2Vk

Facebook Comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

সংবাদ ও সাংবাদিকতা কি?

প্রবাসীদের ইউটিউব থেকে আয়

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১