Tuesday , 12 December 2017

‘নিখোঁজ’ গল্পের শেষ কোথায়?

December 12, 2016 11:58 am Leave a comment A+ / A-

তুষার আবদুল্লাহ ::

tushar-abdullah_1বিজয়ের মাসে এসে মনে পড়ে মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোর কথা। মুক্তিযুদ্ধের সময়কালের অভিজ্ঞতা আমার নেই। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী প্রজন্মের দলে আমি। কিন্তু সেই দিনগুলো যতটা বইয়ের পাতা থেকে জেনেছি, তারচেয়েও বেশি শুনেছি সরাসরি মুক্তিযোদ্ধাদের নিজ জবানিতে। সৌভাগ্যবান মনে করি এজন্য, যাদের সঙ্গে কথা হয়েছে তাদের বেশিরভাগই নির্মোহভাবে সেই দিনগুলোর কথা বলেছেন। এবং অবশ্যই মুক্তিযুদ্ধ যে জনযুদ্ধ ছিল, সেই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতেও সাহায্য করেছেন ওই মুক্তিযোদ্ধারা। তাদের কাছ থেকেই শোনা কিভাবে মার্চ থেকে ডিসেম্বর কিশোর, তরুণরা বাড়ি থেকে পালিয়েছে। শহরের গ্রামের পরিচিত মুখটি কিভাবে নিখোঁজ হয়েছে। এই নিখোঁজ হওয়ার দুটি দিক ছিল। এক. তারা নতুন পতাকা, নতুন মানচিত্র, আনকোরা কোনও স্বপ্ন তুলে আনতে নিখোঁজ হতেন। দুই. হানাদার বাহিনী, রাজাকার তাদের তুলে নিয়ে যেতো। এই দুই কারণে নিখোঁজ হওয়া কিশোর তরুণদের অনেকে ফিরে এসেছিলেন স্বপ্ন ছিনিয়ে নিয়ে। আবার অনেকে প্রাণ দিয়েছিলেন রণক্ষেত্রে বা শত্রুর টর্চারসেলে।
বিজয়ের ৪৫ বছর পর এসে আবারও নিখোঁজ হওয়ার খবর আসছে। পরিচিত মুখগুলো উধাও হয়ে যাচ্ছে। বাড়ি থেকে, বিদ্যায়তন থেকে, কাজের জায়গা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে তরুণরা। একাত্তরে তরুণদের হারিয়ে যাওয়ার যে অনিবার্যতা ছিল, সময়ের প্রয়োজনে যে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার প্রহর গোনা হতো, এখন কি তেমনি কোনও প্রয়োজন দেখা দিয়েছে? কার ডাকে, কার স্বপ্ন পূরণে তারা পলাতক?
এই প্রশ্নগুলো এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। জনসংখ্যা বিবেচনায় বাংলাদেশ এখন সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। বাংলাদেশের জনসংখ্যার উল্লেখযোগ্য অংশ এখন তরুণ। এই তরুণ শক্তির ওপর ভর করেই বাংলাদেশকে উন্নয়নের মহাসড়ক পাড়ি দিতে হবে। কিন্তু এই তরুণরাই বিভ্রান্ত। রাজনৈতিকভাবে, সামাজিকভাবে তারা দিক নির্দেশনার আওতায় নেই। রাজনীতিবীদরা ক্ষমতার স্বার্থে তাদের ব্যবহার করছে। কিন্তু তরুণদের নেতৃত্ব গ্রহণের যে অনুমীলন, সেখান থেকে দূরে রাখা হচ্ছে। সামাজিকভাবেও তরুণরা একাকিত্বে ভুগছে। এজন্য শিক্ষাপদ্ধতিও দায়ী। প্রচলিত শিক্ষা পদ্ধতি সমাজে শ্রেণি বৈষম্য তৈরি করছে। তরুণদের মধ্যে দেশ, মাটি নিয়ে বিভ্রান্তির বীজ বপন করে দিচ্ছে। আবার দেশ ও মাটির ইতিহাস থেকেও দূরে রাখা হচ্ছে তরুণদের। তরুণদের জন্য কর্মমুখী শিক্ষার দুয়ার এখনও খুলে দেওয়া হয়নি। বিশ্ব বাজারে তরুণরা সহজেই প্রবেশ করতে পারে এসন শিক্ষা জনপ্রিয়তা বা পৃষ্ঠপোষকতা পায়নি। বাংলাদেশের সংস্কৃতি থেকে দূরে থাকতে পারে এমন সংস্কৃতির ধোঁয়াতেই তরুণদের আড়াল করে রাখা হয়েছে। তারপরও তরুণরা যে একেবারে মাটি থেকে বিচ্যুত তা নয়। তারা কিন্তু ঠিকই মাটিকে নিজ নিজ কৌশলে স্পর্শ করে। সেই শক্তিতেই তারা বাংলাদেশকে নিয়ে কথা বলতে চায়, তারা সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনার পরিবর্তন চায়। পুরাতন প্রথা ভেঙে নতুনকে বরণ করতে চায়। কিন্তু প্রচলিত ও প্রাচীনতা আকঁড়ে থাকা গোষ্ঠী তাদের সেই সুযোগ দিতে নারাজ। তাদের কথা কানে তুলতে আপত্তি।

কিন্তু তরুণরাতো স্বপ্নের পেছনে ছুটবেই। তাদের এই দুর্নিবার চাওয়াকে ভুল পথে নিয়ে যাওয়ার জন্যও ওঁত পেতে থাকে কতিপয় মহল। তারা ধর্মের নামে, নষ্ট রাজনীতির নামে এই তরুণদের দলে ভেড়ায়। স্বপ্ন পূরণের নেশায় তরুণরা বাড়ি ছাড়ছে, পরিবার ছাড়ছে, বন্ধু ছাড়ছে, কাজের জায়গা ছাড়ছে। এই ছেড়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল অনেক আগেই। সমাজের নিচুতলা থেকে এই প্রক্রিয়াটি শুরু হওয়ায় আমরা সেটি আমলে নেইনি। কিন্তু জুলাইতে হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার পর সমাজ টের পেল নিখোঁজের পেছনে উচুঁতলার মানুষেরাও আছে। টনক নড়ার পর সতর্কতা নেওয়া হয়েছিল। তাদের ফিরে আসার আহবান, আহাজারীও কম করা হয়নি। কিন্তু সব কিছুই যে ভেস্তে গেছে, তার প্রমাণ-আবারও হারিয়ে যাওয়ার খবর আসতে শুরু করেছে।

আসলে শুধু আহবান এবং  আহাজারী করে তরুণদের এই নিখোঁজ হওয়া আটকানো যাবে না। তরুণদের চোখ জুড়ে শুদ্ধ রাজনীতির স্বপ্ন। তারা সৃজনশীল। এই সৃজনশীল তরুণরা বিজয়ের গল্প লিখতে চায়। তাদের হাতে সেই গল্প লেখার শ্লেট, কাগজ-কলম, কিবোর্ড তুলে দিতে হবে। পুরাতন, প্রাচীন, মুখোশ রাজনীতিক, সমাজপতিরা অনেকতো হলো, একবার তরুণদের কথা শুনুন। ওদের বলতে দিন, লিখতে দিন বিজয়ের গল্প। দেখবেন নিখোঁজের নটে গাছটিও মুড়িয়ে যাবে।

লেখক: বার্তা প্রধান, সময় টিভি

‘নিখোঁজ’ গল্পের শেষ কোথায়? Reviewed by on . তুষার আবদুল্লাহ :: বিজয়ের মাসে এসে মনে পড়ে মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোর কথা। মুক্তিযুদ্ধের সময়কালের অভিজ্ঞতা আমার নেই। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী প্রজন্মের দলে আমি। কিন্তু স তুষার আবদুল্লাহ :: বিজয়ের মাসে এসে মনে পড়ে মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোর কথা। মুক্তিযুদ্ধের সময়কালের অভিজ্ঞতা আমার নেই। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী প্রজন্মের দলে আমি। কিন্তু স Rating: 0

আপনার মন্তব্য দিন

scroll to top