Monday , 23 October 2017

আমাদের শৈশব

December 12, 2016 10:08 am Leave a comment A+ / A-

10401994_10153033675130376_1911744577917202953_n(পর্ব-১). ১০-১১ বছর পর্যন্ত আমাদের বেশির ভাগ জামাকাপড় আম্মা বানিয়ে দিতেন। ঘরে একটা বাটারফ্লাই সেলাই মেশিন ছিল। পেশাদার ফিতায় মাপ নিয়ে দর্জি কাঁচি দিয়ে কাপড় কাটা হতো। আমাদের মানে আমার আর ভাইয়ের শার্ট প্যান্ট আম্মা একটু ঢিলেঢালা করে বানাতেন যাতে সহজে ছোট না হয়। ১৯৮৩ বা ৮৪ সালে বিটিভির একটা অনুষ্ঠানে ঘোষণা শোনা গেল, সুদূর চট্টগ্রাম থেকে ঝড় তুলতে আসছে সোলস। তা ব্যান্ড দলটির পারফরমররা সকলেই বেশ লম্বা ঝুলের শার্ট পরেছিলেন।আব্বা আর আমরা দুই ভাই মুগ্ধ চোখে দেখছিলাম তাদের। আব্বা বেশ খুশিয়াল গলায় আম্মাকে ডাকলেন, শুনছ দেইখা যাও। আম্মা এলে আব্বা টিভি মনিটর দেখিয়ে বললেন, দ্যাখো শার্টগুলা মনে হয় ওগো মায় বানায়া দিসে। আম্মাও দেখলেন, আমি এরম শার্ট বানাই? এত ঢোলা? যাও তোমার পোলাগো শার্ট-প্যান্ট আর বানামুই না।

(পর্ব-২). ১৯৮৫। মামাদের কল্যাণে বাসায় ভারী একটা এয়ারগান বেড়াতে এসেছে। মায়ের চোখরাঙানি আর বাবার বাজখাই চিৎকারে ১১-১২ বছরের আমরা সেরকম একটি খেলনায়ও ভালো করে হাত দিতে পারিনি। কিন্তু এ অবস্থা তো লম্বা সময় ধরে চলতে পারে না। আমাদের স্বাধীন রক্ত টগবগ করে উঠলো। একদিন আম্মা ঘুমায়, ১২ বছরের মুস্তাফিজের নেতৃত্বে অভিযান শুরু হলো। খাবার ঘর থেকে পা টিপে টিপে চেয়ার তার উপর মোড়া। আমার দায়িত্ব আলমারির কোল ঘেঁষে প্রতিষ্ঠিত এই উত্থানের ভারসাম্য বজায় রাখা। আলমারির ছাদ থেকে নামানো হলো কাঠ আর ইস্পাতের দৃঢ় যুগলবন্দীকে। কথা ছিল একটু নেড়ে চেড়ে রেখে দেওয়া হবে। কিন্তু আগের দিন কার্তুজ কেনা হয়েছে কয়েক বাক্স, অবহেলায় তা পড়ে আছে ঘরের এক কোণায়। নিঃশব্দ চোখাচোখিতে ঠিক হল কার্তুজ ঢুকিয়ে পরীক্ষা করা হবে। জানালা দিয়ে তাক করা হবে পেয়ারা গাছের চড়ুই পাখিগুলোকে। বন্দুকের ইস্পাত অংশটুকু ভাজ করে রেখে গুলি ঢুকাতে দেখেছি আমরা দুজনই। সহজ কাজটির জন্য এগিয়ে এল মুস্তাফিজ। বেশ কাপ্তেনের মত একবারেই ভাজ করতে পারলো বন্দুকের নল, কিন্তু পুরো কক হওয়ার আগেই শক্তিতে কুলায়নি বলে ছেড়ে দিলো সেটি। মুহূর্তেই নিজের জায়গায় ফিরে এলো সে। নিজের জায়গায় ফিরতে পারেনি শুধু মুস্তাফিজের ডান হাতের অন্তত দুটি আঙুল, নির্দিষ্ট খোপে গুলি ভরার তালে ছিল ওরা।

দুটি আঙুল থেঁতলে গিয়ে মুস্তাফিজ একটুও আ করেনি। আলমারি থেকে ভুমিষ্ঠ বন্দুক হাতে আম্মার মুখোমুখি হওয়ার চেয়ে থ্যাতলানো চুপ অনেক ভালো একথা কে না জানে? একটি আস্ত চাদর ফালি ফালি করে পেঁচিয়েও কেন রক্ত বন্ধ হচ্ছে না সেটাই ছিল সেই মুহর্তের আলোচ্য। (চলবে..)

-খালেদ মহিউদ্দিন (নির্বাহী সম্পাদক, ইনডিপেনডেন্ট টিভি)

আমাদের শৈশব Reviewed by on . (পর্ব-১). ১০-১১ বছর পর্যন্ত আমাদের বেশির ভাগ জামাকাপড় আম্মা বানিয়ে দিতেন। ঘরে একটা বাটারফ্লাই সেলাই মেশিন ছিল। পেশাদার ফিতায় মাপ নিয়ে দর্জি কাঁচি দিয়ে কাপড় কাটা (পর্ব-১). ১০-১১ বছর পর্যন্ত আমাদের বেশির ভাগ জামাকাপড় আম্মা বানিয়ে দিতেন। ঘরে একটা বাটারফ্লাই সেলাই মেশিন ছিল। পেশাদার ফিতায় মাপ নিয়ে দর্জি কাঁচি দিয়ে কাপড় কাটা Rating: 0

আপনার মন্তব্য দিন

scroll to top