Monday , 23 October 2017

ব্রাজিল পর্তুগালের!

August 6, 2016 7:51 pm Leave a comment A+ / A-

025257brizil_kalerkantho_pic

নতুনকন্ঠ :  ব্রাজিলে ইউরোপিয়ানদের উত্তরাধিকার আছে। আর ষোড়শ শতকে সেটার গোড়াপত্তনকারী পর্তুগাল। আধুনিক ব্রাজিলেও তাই পর্তুগিজ ভাষাই প্রধানতম। তাতে অলিম্পিক ফুটবলে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর দেশ যে সমর্থন পাবে, তা অভাবিত নয়। আর প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা বলেই বৃহস্পতিবার রাতের ব্রাজিলকে মনে হলো পর্তুগাল। রিওর অলিম্পিক স্টেডিয়ামে পর্তুগালের ২-০ গোলের জয়ে স্থানীয়দের উৎসব দেখে কে বলবে, ঘণ্টা তিনেক আগেই রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে পয়েন্ট খুইয়েছে নেইমারসহ ব্রাজিল!

এ যেন বাংলাদেশে বসে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা বৈরিতা দেখা। ব্রাজিল হারলে আর্জেন্টিনা সমর্থকরা ফিস্ট দেয়। লিওনেল মেসি যে অতি সাধারণ মানের একজন খেলোয়াড়—সেটি প্রমাণে হাজারটা যুক্তি খুঁজে বের করেন ব্রাজিলভক্তরা। প্রিয় দলের সাফল্য আর অপ্রিয় দলের হার যেন দুই পক্ষের কাছেই সমান আনন্দের। এত দিন ধারণা ছিল এ বুঝি একান্তই আমাদের ‘হ্যান্ডিক্যাপ’। পরশু অলিম্পিক স্টেডিয়ামে দুই ঘণ্টায় সে ভুলটা ভেঙে গেছে, আপনার-আমার-আমাদের বাংলাদেশ বিশ্বের আরো অনেকখানেই আছে!

ব্রাজিলে হয়ই না, এমন খেলা নেই। তবে খেলাটা যখন ফুটবল, তখন সেটা খেলেন না, নিদেনপক্ষে দেখেন না—এমন ব্রাজিলিয়ান খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। বরং খেলাটা প্রতি দুর্নিবার আকর্ষণ এ জনগোষ্ঠীর। সন্ধ্যা ৬টায় আর্জেন্টিনা-পর্তুগাল ম্যাচ তো বিকেল ৪টা থেকেই রিওর নানা প্রান্ত থেকে অলিম্পিক স্টেডিয়ামে ছুটছে দর্শক। কর্মসূত্রে এবং কাছের শহর হওয়ায় আর্জেন্টাইন জার্সির অভাব নেই ট্রেনে-বাসে। তবে ৬০ হাজার দর্শকের অলিম্পিক স্টেডিয়ামের অর্ধেকটারও বেশি ভরে ওঠার পেছনে ব্রাজিলিয়ানদের অবদানই ৮০ শতাংশ। পুরো পরিবারের গায়ে ব্রাজিলের জার্সি। কেউ-বা অলিম্পিক স্টেডিয়ামের হোম টিম বোটাফোগোর জার্সি গায়ে চলেছেন মাঠে। পর্তুগালের কন্টিনজেন্টটাও চোখে পড়ার মতো। অবশ্য তাদের বেশি দেখা যাচ্ছে কোপাকাবানা বিচে। অলিম্পিকের মেডেলের রেপ্লিকা বিলিয়ে পর্তুগালের সমর্থক বাড়ানোর পাশাপাশি দু’পয়সা কামিয়েও নিচ্ছেন। তো, তাঁদের সিংহভাগের গায়ে যথারীতি রোনালদোর জার্সি, যদিও এ সুপারস্টার অলিম্পিকে নেই, প্রভাবটা তো থাকবেই। যেমন অলিম্পিকে না থেকেও আছেন মেসি। কে বলে, আর্জেন্টাইনদের মেসিপ্রেম চটে গেছে! বরং সেবাস্তিয়ান নামের এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের প্রেম তো ‘অন্য রকম’। পিঠে মেসি কিন্তু জার্সি নম্বর ১৮! ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে যা শুনলাম, তার ভাবার্থ, ‘আমার বয়স এখন ১৮। পরের বছর জার্সিটা ১৯ করে ফেলব।’

ম্যাচ শুরুর পর ওই তরুণের সঙ্গে আরেকবার মুখোমুখি হতে পারলে ভালো হতো। জানা যেত ব্রাজিলিয়ানদের এমন নির্দয় র্যাগিং কতটা জ্বালিয়েছে-পুড়িয়েছে তাঁকে। সে কি র্যাগিং! কিক অফের পর থেকে যতবার বল গেছে এবং বল থেকেছে আর্জেন্টাইনদের পায়ে, ততবার এবং ততক্ষণ দুয়ো দিয়েছে পুরো গ্যালারি। উল্টোটা পর্তুগালের বেলায় এমনকি, গোল কিক নেওয়ার সময়ও সে কী উচ্ছ্বাস ব্রাজিলিয়ানদের। সেবাস্তিয়ানের বয়সীই চারজনের একটা গ্রুপ বসে ছিল পাশেই। এদের শিরোমণিকে দেখলাম মোবাইলে স্টোর করা গানের কথা ও সুরে পর্তুগিজ ভাষায় গান গেয়ে যাচ্ছে। ‘ম্যারাডোনা’, ‘পেলে’ এবং ‘মেসি’— এই তিনটি নামই এলো তাদের হেঁড়ে কণ্ঠের গানে। তবু হেসে কুটি কুটি পাশের দর্শকরা।

কৌতূহল হওয়াটা স্বাভাবিক। পাশের জনের কাছে ভাঙা ভাঙা না, চুরমার করা ইংরেজিতে ধারণা পাওয়া গেল ডিয়েগো ম্যারাডোনা যে পেলের তুলনায় নস্যি এবং লিওনেল মেসি একজন মেয়েমানুষ— গানের কলিতে সেসবই টুকে এনেছে তরুণ চতুষ্টয়। মেসির এমন ইম্প্রেশন কি ট্রফি জিততে পেরে কেঁদেছেন বলে? না, মেসির অবয়বটাই নাকি মেয়েদের মতন! ভাষাগত সমস্যার কারণে জানা গেল না ঘণ্টা দুই আগে ব্রাসিলিয়ায় দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে গোলশূন্য ড্রয়ের পর নেইমারকে নিয়ে কী ভাবছে এই তরুণ দলটি। রাতেই অবশ্য ইন্টারনেটে ক্লিক করে জানা হয়ে গেছে যে, নেইমারকেও ছাড়েনি ব্রাজিল। প্রথমবার অলিম্পিক সোনা জয়ের স্বপ্ন দেখতে থাকা ২০ কোটি মানুষ কী করে সহ্য করে এমন ফল! প্রায় পুরোটা সময় ধরেই নেইমারের নিকুচি করেছেন দর্শকরা।

এবং এটাই ফুটবল। ৯০ মিনিটের ধুন্ধুমার খেলায় অলিম্পিক স্টেডিয়ামে যে উৎসবের রং যোগ করেছেন দর্শকরা, তা প্রথম এত বড় মাপের ম্যাচ দেখার অভিজ্ঞতাকেও রাঙিয়ে দিয়েছে। মাঠে বল দখলের যুদ্ধংদেহী লড়াইয়ের সঙ্গে গ্যালারিতে মারকাটারি মেজাজ অতটা অভব্য মনে হয় না। ঝিম মেরে থাকা ক্রিকেট গ্যালারির চেয়ে বহুগুণ বেশি বিনোদন দেয় এ উন্মাদনা।

বেচারা আর্জেন্টিনা! দ্বিতীয় গোলটা হজম করেছে গোলরক্ষক গেরোনিমো রুলির সীমাহীন ভুলে, দু’পায়ের ফাঁক দিয়ে বল যায় নাকি! প্রথম গোলটায় অবশ্য তাঁর দায় নেই। ৬৬তম মিনিটে নিচু শটে পাসিয়েনসিয়ার গোলটাও অবশ্য খেলার ধারার বিপরীতে। তার আগে-পরে তিনবার নিশ্চিত গোলের হাত থেকে পর্তুগালকে বাঁচিয়েছে তাদের ডিফেন্স। একবার আর্জেন্টিনাকে বিমুখ করেছে গোলবার। আর গোটা দুই সুযোগ বাইরে মেরে নষ্ট করেছেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডরা। সিনিয়র দলের রোগটা কি তাহলে আর্জেন্টিনার অলিম্পিক দলেও সংক্রমিত হলো নাকি! পর্তুগালও তাই। ইউরো জয় যেন আত্মবিশ্বাসের পালে হাওয়া দিয়েছে তাদের। আর্জেন্টিনা এতগুলো আক্রমণ করেছে, তবু একবারের জন্যও বিচলিত দেখায় না পর্তুগালকে।

আর ব্রাজিলও ব্রাজিলই আছে! দুর্বল প্রতিপক্ষ, শেষ ৩০ মিনিট তাদের ১০ জনে পরিণত হওয়াও জেতাতে পারে না এ ব্রাজিলকে, যে ড্র’কে হারের ‘মর্যাদা’ দিয়েছেন স্বয়ং নেইমার।

– See more at: http://www.natunkantha.com   -( 06 August 2016 )

ব্রাজিল পর্তুগালের! Reviewed by on . নতুনকন্ঠ :  ব্রাজিলে ইউরোপিয়ানদের উত্তরাধিকার আছে। আর ষোড়শ শতকে সেটার গোড়াপত্তনকারী পর্তুগাল। আধুনিক ব্রাজিলেও তাই পর্তুগিজ ভাষাই প্রধানতম। তাতে অলিম্পিক ফুটবলে নতুনকন্ঠ :  ব্রাজিলে ইউরোপিয়ানদের উত্তরাধিকার আছে। আর ষোড়শ শতকে সেটার গোড়াপত্তনকারী পর্তুগাল। আধুনিক ব্রাজিলেও তাই পর্তুগিজ ভাষাই প্রধানতম। তাতে অলিম্পিক ফুটবলে Rating: 0

আপনার মন্তব্য দিন

scroll to top